আজ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইদেশির জরিপ বলছে, দেশে থ্যালাসেমিয়ার বাহক ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ। প্রতি বছরই বাহক আর রোগী বাড়লেও থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এখনও বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হয়নি। গর্ভাবস্থায় রোগ নির্ণয় পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেই কোনো সরকারি হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা বলছেন, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে দুই বাহকের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করা গেলে রোগের বিস্তার দ্রুত কমানো যেত।
থ্যালাসেমিয়ায় একই পরিবারে একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে রোগীদের সঙ্গে বাড়ছে পরিবারের ভোগান্তিও। থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দুই ভাই মোরসালিন ও মোস্তাহিদকে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই জনই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। মাসে রক্ত নিতে হয় দুইবার। রক্ত সংগ্রহের জন্য তাঁদের মা গেছেন পাশের প্রতিষ্ঠানে।
একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য আক্রান্ত এমন অনেক রোগী রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে দুই বাহকের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করা গেলে রোগের বিস্তার দ্রুত কমানো যেত। কিন্তু এ নিয়ে নেই নাগরিক সচেতনতা, নেই সরকারি উদ্বেগও।
থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, সরকার থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে ছেলে-মেয়ে বিয়ের আগে বাধ্যতামূলক রক্ত পরীক্ষা করার নিয়ম প্রণয়ন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমে আসবে।
ভিডিও দেখুন:ঝুঁকিপূর্ণ প্রেগন্যান্সি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তাবাসসুম পারভীন বলেন, গর্ভাবস্থায় ১১ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণের ডিএনএ পরীক্ষা করে থ্যালসেমিয়া নির্ণয় করা যায়। আগে ভারতে নমুনা পাঠানো হলেও এখন দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই পরীক্ষা করে। তবে তা ব্যয়বহুল।
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের শরীরে হিমোগ্লোবিন ঠিকমতো তৈরি হয় না। এ কারণে অন্যের রক্ত নিয়ে বাঁচতে হয়।