ডিজিটাল ডিমেনশিয়া কী, কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ বলতে সাধারণত ভুলে যাওয়া রোগ বোঝায়। তবে এ রোগের প্রভাব সকলের একরকম হয় না। মনোবিদদের মতে, ডিমেনশিয়ার কোনোটা ভুলে যাওয়ার রোগ, কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহারে হঠাৎ বদল, অনেকের আবার প্রচণ্ড আগ্রাসী মনোভাব দেখা দেয়। ডিমেনশিয়া এমন এক মানসিক ব্যধি, যার প্রভাবে চিন্তা ও স্মরণশক্তি, কথা বলা, বিচারবুদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। 

বর্তমানে নতুন উদ্বেগের নাম ‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিচারবুদ্ধি বা জ্ঞানের ক্ষমতার যে পরিবর্তন হয় সেটিই ডিজিটাল ডিমেনশিয়া।

ডিজিটাল ডিমেনশিয়ার প্রভাব
শারীরিক সমস্যা হিসেবে এই রোগ চিহ্নিত করা না হলেও, বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ অর্থাৎ স্মার্টফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে অতিরিক্ত সময় পার করলে মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় ক্ষমতায় পরিবর্তন দেখা দেয়।

২০২২ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, অলস স্বভাবের সাথে যদি টিভি দেখা ও কম্পিউটারের বেশি ব্যবহার যুক্ত হয় তবে স্মৃতি লোপ পাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ফলাফলে ‘প্যাসিভ কগনিটিভলি’ বা জ্ঞানীয় ক্ষমতার নিষ্ক্রিয় আচরণ শারীরিক কার্যকলাপ হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে ‘প্যাসিভ কগনিটিভলি অ্যাক্টিভ’ বা জ্ঞানীয় ক্ষমতার নিষ্ক্রিয়তার সক্রিয় ব্যবহার, অর্থাৎ অলসভাবে তাকিয়ে না থেকে কম্পিউটারে কোনো কাজ করলে ডিমেনশিয়া ঝুঁকি কম দেখা গেছে।

২০২৩ সালে ভারতের ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চের করা পর্যালোচনায় বলা হয়, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশু ও কিশোরদের স্মরণশক্তির ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া চীনের দ্য ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব জিনান ইউনিভার্সিটি কয়েক লাখ অংশগ্রহণকারীর স্ক্রিন টাইম ও আচরণের ওপর গবেষণা চালায়। এতে দেখা গেছে দৈনিক চার ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার সাথে ‘ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া’ এবং ‘অল কজ ডিমেনশিয়া’ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।

ডিজিটাল ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের উপায়

‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’ থেকে সেরে ওঠার কোনো ওষুধ নেই। তাই এই রোগ হওয়ার আগেই সতর্ক হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার কমানোই হবে এর আসল প্রতিরোধ।

নোটিফিকেশন সীমিত করা: স্মার্টফোনের দিকে বারবার মনোযোগ চলে যাওয়া এড়াতে নোটিফিকেশনের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনীয় না এমন অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিতে হবে।

স্ক্রিন টাইম কমানো: কাজ ছাড়া বিনা কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানোর পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম কমানোর সেটিংস চালু করা যেতে পারে। অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনে কাটালেই আসবে সতর্কতামূলক নোটিফিকেশন।   

নির্দিষ্ট রুটিন করা: স্ক্রিন টাইম কমানোর জন্য নির্দিষ্ট রুটিন করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট করে অবসর সময়ে কিছুক্ষণ স্মার্টফোন দেখা, গেম খেলা বা টিভি দেখার অভ্যাস করতে পারেন। 

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া