ডিম ভালো নাকি খারাপ, যেভাবে বুঝবেন

ডিম অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। ডিম এতটাই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার যে, প্রতিদিনে অন্তত একটা ডিম হলেও প্রতিটি মানুষের খাওয়া উচিত। অন্যান্য প্রোটিন জাতীয় খাবারের তুলনায় ডিম সহজলভ্য, সহজে রান্না করা যায় এবং তুলনামূলক ক্রয় সাধ্য। কিন্তু ভিটামিন ই সমৃদ্ধ অথবা ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ডিমে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ থাকলেও বেশিরভাগ সময় তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে থাকে।

তবে ডিমে উৎপন্ন বা মেয়াদউত্তীর্ণ তারিখ না থাকায় ডিম কতদিন ভালো থাকবে এবং কিভাবে সংরক্ষণ করা স্বাস্থ্যসম্মত, এটা নিয়ে অনেকের মনেই অনেক রকম প্রশ্ন থাকে।

ডিম সতেজ কি না তা বুঝতে এর একটি সহজ পদ্ধতি হলো পানিতে ডুবিয়ে দেখা। এক্ষেত্রে একটা পানি ভর্তি গ্লাস বা পাত্র নিতে হবে, যেখানে ডিমটি ডুবানো যেতে পারে। এখন ডিমটি পানিতে ছেড়ে দিলে যদি ডুবে যায় এবং পানির একদম নিচে আড়াআড়ি পড়ে থাকে, তবে এটি ভালো ডিম। যদি ডিম সোজা হয়ে দাঁড়ায় বা ভাসমান থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এটি নষ্ট ডিম, তাই ফেলে দিতে হবে।

ডিমের খোসায় কোনো অণুজীব বা দূষিত পদার্থ থাকলে তা ফ্রিজের অন্য খাবারকে সংক্রমিত করতে পারে। ছবি: পেক্সেলসএছাড়া শব্দ শুনেও পরীক্ষা করা যায়, ডিম ঝাঁকিয়ে শোনা পদ্ধতি। ডিম ঝাঁকানোর সময় যদি কোনো শব্দ শুনতে পাওয়া না যায়, তাহলে ডিমটি ভালো। আর যদি ঢক ঢক আওয়াজ হয় তাহলে ডিমটি পচে গেছে।

আর একটি পদ্ধতি হলো আলোর সামনে ডিম ধরা। সেক্ষেত্রে আলোর সামনে ডিম ধরলে যদি ভালো ডিমের ভেতর রিংয়ের মতো আকার দেখা যায় তবে বুঝতে হবে ডিম নষ্ট হতে শুরু করেছে।

ডিম আমাদের সবারই কমবেশি পছন্দ আর যেহেতু প্রতিদিনই বাড়িতে ডিম প্রয়োজন হয় তাই অনেকেই বাড়িতে বেশি করে ডিম এনে রাখেন। আর বেশির ভাগ মানুষই ডিম কিনে বাসায় এনে ডিমের সঙ্গের বক্স ফেলে দিয়ে ডিমগুলো ফ্রিজের দরোজায় একটি নির্দিষ্ট তাকে খোলা অবস্থায় রেখে দেন। কিন্তু দরজা হলো ফ্রিজের উষ্ণতম জায়গার মধ্যে একটি। তাছাড়া ডিমের খোসায় হাজার হাজার ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে ফ্রিজের অন্যান্য খাবারের তীব্র গন্ধ ও স্বাদ শোষণ করতে পারে।

যদিও ডিম পরিষ্কার করেই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়, তারপরও ডিমের খোসায় কোনো অণুজীব বা দূষিত পদার্থ থাকলে তা ফ্রিজের অন্য খাবারকে সংক্রমিত করতে পারে। তাই ডিম বক্সে করে ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজের তাকে অন্যান্য খাবার থেকে দূরে সংরক্ষণ করা উচিত।

ফ্রিজে রাখলে ডিম পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। পাঁচ সপ্তাহ পরে ডিমের খোসার মধ্য দিয়ে বাতাস ভেতরে প্রবেশ করে ফলে কুসুম ও ডিমের সাদা অংশ ধীরে ধীরে নষ্ট হতে শুরু করবে।

এ ছাড়া ডিম সেদ্ধ করে সংরক্ষণ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্যমতে, সেদ্ধ করার পর সাধারণত দুই ঘণ্টার মধ্যে ডিম খেয়ে ফেলা উচিত। সেদ্ধ করা ডিম চাইলে ডিপ ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করা যাবে, তবে ডিম অবশ্যই খোসাসহ রাখতে হবে।

ফ্রিজে রাখলে ডিম পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। ছবি: পেক্সেলসখোসা ছাড়ানো সেদ্ধ ডিম ফ্রিজে রাখা যাবে না। তাছাড়া ফ্রিজে সেদ্ধ ডিম সংরক্ষণ করতে চাইলে অবশ্যই এয়ারটাইট পাত্র ব্যবহার করতে হবে। এভাবে সঠিক নিয়মে ডিম সেদ্ধ ডিপ ফ্রিজে সপ্তাহখানেক ভালো থাকে, কিন্তু তারপরই তা নষ্ট হতে শুরু করে।

তবে অনেক সময় সেদ্ধ ডিম ফ্রিজে রাখলে দুর্গন্ধ হতে পারে। কারণ সেদ্ধ ডিম ফ্রিজে রাখলে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা ক্ষতিকর না হলেও স্বাদে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে। যেহেতু সংরক্ষণ করলেও একটা সময় পর ডিমগুলো নষ্ট হবেই। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ডিম দীর্ঘদিন সংরক্ষণ না করে বরং প্রতিদিন এক বা একাধিক টাটকা বা ফ্রেশ ডিম খাওয়াই ভালো।

লেখক: নিউট্রিশন অফিসার, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি

আরো পড়ুন: