মার্কেট বা রাস্তায় হঠাৎ ছেলেবেলার বন্ধুর সঙ্গে দেখা, কিন্তু আপনি তার নামটা কিছুতেই মনে করতে পারছেন না! কী এক বিড়ম্বনা! আবার গতকাল রাতে ডিনারে কী খেয়েছিলেন, মুদির তালিকাটা কোথায় রেখেছেন, তরকারিতে লবণ দিয়েছেন কি দেন নি, এমন সাধারণ অনেক তথ্যও আজকাল আপনার মনে পড়ছে না। এর প্রভাব পড়ছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনে, বাড়ছে অন্যান্য সমস্যা।
অতীতে কেবল বয়স্ক মানুষের মধ্যেই স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যেত। কিন্তু ইদানীং সব বয়সী মানুষই যেন এমন সমস্যার ভুক্তভোগী। মানসিক চাপ, বিশ্রামের ঘাটতি, পরিবেশগত দূষণ, ডিভাইস আসক্তি, ঘুমের অভাব প্রভৃতি অনেক কারণকে দায়ী করা যায় এর নেপথ্যে।
তবে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কয়েকটি খাবার যুক্ত করলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেতে পারেন। আসুন জেনে নিন, এসব খাবার সম্পর্কে–
তৈলাক্ত মাছ
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে তিন দিন বা তিনের অধিক দিন মাছ খান, তাদের মস্তিষ্কের কোষ অনেক বেশি সুগঠিত ও বেশি কর্মক্ষম। রোজকার ডায়েটে তাই রাখুন তৈলাক্ত মাছ। এ মাছে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মস্তিষ্ক সচল রাখার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই এবং জিঙ্কসহ পুষ্টিতে সমৃদ্ধ বিভিন্ন ড্রাই ফ্রুট মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত খেতে পারেন আখরোট, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, কিসমিস প্রভৃতি। অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় ড্রাই ফ্রুট মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং ফ্রি র্যাডিক্যাল ড্যামেজ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এতে আরও রয়েছে উচ্চমাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম, যা মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে কাজ করতে সক্রিয় করে।
পালংশাক
এই সবুজ শাক ভিটামিন কে, ই ও ফোলেট সমৃদ্ধ। পালংশাকের মতো গাঢ় সবুজ শাকসবজি ব্রেনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুণ কার্যকরী। এই শাকের ভিটামিন ই মস্তিষ্কে বয়সের প্রভাব ও স্মৃতিভ্রংশ কমাতে বা দূর করতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন একটি করে আপেল খাওয়ার পরামর্শ দেন। আপেলে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট কোয়েরসেটিনয়ের মাঝে ‘নিউরোপ্রোটেক্টিভ’ প্রভাব পেয়েছেন গবেষকরা। ফলে আপেল নিয়মিত খাওয়ার কারণে মস্তিষ্কের নিউরনগুলো বেশিসময় কর্মক্ষম থাকে। জানেন কী, আপেল খেলে কমে মাথাব্যথার হারও।
আপনি কি চকলেটের ভক্ত? চকলেট দেখলেই আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেন না! তাহলে আপনার জন্য ভালো খবর! ডার্ক চকলেট খেলে বাড়ে স্মৃতি। ডার্ক চকলেটের মধ্যে থাকা কোকো মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কোকোর মধ্যে থাকে প্রচুর মাত্রায় ফ্ল্যাভোনয়েড যা মস্তিষ্কে রক্তের সঞ্চালনা বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা চকলেট বেশি খান তাদের স্মৃতিশক্তি চকলেট কম খাওয়া মানুষের তুলনায় বেশি।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন