সত্যিই কি আপেল ডাক্তার থেকে দূরে রাখে!

ইংরেজিতে একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে ‘অ্যান অ্যাপল আ ডে, কিপস দ্য ডক্টর আওয়ে’, অর্থাৎ দিনে একটা করে আপেল খেলে, ডাক্তারের কাছে আপনাকে কখনো যেতে হবে না।

নিঃসন্দেহে আপেল একটি অনন্য পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। আমাদের দেশে সারা বছরই ফলটি বাজারে মেলে। কিন্তু আপেলের যেসব স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘হাইপ’ রয়েছে তা আসলে কতটা সত্যি!

কিংস কলেজ লন্ডনের ডায়েটিশিয়ান ড. এমিলি লিমিংয়ের মতে, এসব দাবির অনেকটাই সত্য। প্রসঙ্গত, তিনি ‘দ্য জিনিয়াস গাট: দ্য লাইফ চেঞ্জিং সায়েন্স অব ইটিং ইউর সেকেন্ড ব্রেইন’ নামক বইয়েরও লেখক।

আমাদের দেশে সারা বছরই  আপেল বাজারে মেলে। ছবি: ফ্রিপিকড. এমিলি বলেন, ‘আপেল হলো ফাইটোনিউট্রিয়েন্টের একটি সমৃদ্ধ উৎস, ঠিক যেমনটি ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো আমাদের ইমিউন সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন সি শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে এবং সংক্রমণ সারাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অতিরিক্ত প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। এই উপাদানের জন্যই আমরা অসুস্থতা থেকে দ্রুত সেরে উঠতে পারি।

তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আপেল আমাদের ‘গাট হেলথ’ বা হজমের জন্য অত্যন্ত দরকারি।

আমাদের ইমিউন কোষের ৭০ শতাংশই অন্ত্রে রয়েছে। হাজার হাজার ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, মাইক্রোবস প্রভৃতির সমন্বয়ে অন্ত্রে একটি মাইক্রোবায়োম সিস্টেম তৈরি হয়, যা আমাদের হজমক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সামগ্রিক ইমিউন ব্যবস্থাকে সচল রাখে।

এক্ষেত্রে আপেলের দুই রকম ভূমিকা দেখা যায়।

প্রথমত, মাত্র একটি আপেলে ১০০ মিলিয়ন (এক হাজার লাখ) মাইক্রোবস থাকে, যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে সহজেই খাদ্যকণাগুলো ভেঙে শরীরের শোষণ উপযোগী ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ত, গড়ে প্রতিটি আপেলে প্রায় ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে। অন্ত্রের ‘গুড ব্যাকটেরিয়া’ গুলোর জন্য এই ফাইবার জ্বালানির কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।

তাই বলে দিনভর কেবল আপেল খেয়ে কাটাতে যাবেন না! একটিমাত্র বা এক ধরনের খাবার গ্রহণ কখনোই আমাদেরকে রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। সুস্থতার জন্য সব খাদ্য উপাদানের উপস্থিতিই প্রয়োজন।

ড. এমিলি তাই বিভিন্ন ধরনের ফল এবং শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ফাইবার, নিউট্রিয়েন্ট, পলিফেনল এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহে সক্ষম। বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য, বিনস, বাদাম এবং বীজ খেলে দৈনিক ৩০ গ্রাম ফাইবারের চাহিদা সহজেই পূরণ করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান