দাঁতে ইনফেকশন প্রতিরোধে যা যা করা জরুরি

দাঁত নিয়ে মানুষের সমস্যার শেষ নেই। অযত্নে কিংবা অবহেলার কারণে যে কোনো বয়সের দেখা দিতে পারে দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা। দাঁতের বিষয়ে আমরা অনেকেই উদাসীন থাকি। অন্যান্য রোগের মতো দাঁতের ক্ষেত্রেও ইনফেকশন বা সংক্রমণ রোগ দেখা দিতে পারে।

দাঁতের ইনফেকশন বা সংক্রমণের কারণে দাঁতব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া জ্বর, কিছু খাওয়ার সময় ব্যথা, দাঁতে ঠান্ডা বা গরমের স্পর্শে সংবেদনশীলতা এবং মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। দাঁতের ইনফেকশন বা সংক্রমণ দাঁতের গোড়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে দাঁতের ভেতরে পুঁজে ভরে যেতে পারে। দাঁতের চারপাশের শিরা ও টিস্যুতে এভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াকে  পেরিওডনটিটিস বলে।

সিকদার ডেন্টাল কেয়ারের ডেন্টাল সার্জন ডা. পূজা সাহা বলেন, ‘দাঁতের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে সচেতনতা খুব কমই দেখা যায়। দাঁতে সংক্রমণ দাঁতের গোড়া ও আশপাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দাঁতের পাশে ও গোড়ার ভিতরে পুঁজ হয়। এই সংক্রমণের ফলে ব্যথা হয়। দাঁতের সামান্য অবহেলার কারণে দন্তক্ষয় থেকে দাঁতের গোড়ায় সংক্রমণ বা ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। গবেষণা দেখা গেছে, দাঁতে জীবাণুর ইনফেকশন বা সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা থেকে  অনেক জটিল রোগ দেখা দিতে পারে।’

এই দন্ত বিশেষজ্ঞের মতে, দাঁতের ইনফেকশন প্রতিরোধে অবশ্যই দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। চিনিযুক্ত খাবার এবং কোমল পানীয় পান, ধূমপান, দাঁতের চিকিৎসায় চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া দাঁত সংক্রমণের কারণ। এছাড়া ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এবং কম লালা উৎপাদনের মতো কারণ ও রয়েছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দন্ত চিকিৎসক পুঁজ ভর্তি ফোঁড়া গঠিত হলে, ব্যথা কমাতে ফোঁড়াগুলি থেকে পুঁজ বের করে দেন। কিংবা রুট ক্যানেল পদ্ধতির মাধ্যমে মাড়িতে ছড়িয়ে যাওয়া সংক্রমণ ও জমা হওয়া পুঁজ বের করে দেন। আবার প্রভাবিত হওয়া দাঁতে রুট ক্যানেল পদ্ধতি কার্যকরী না হলে, শেষে দাঁতটি তুলে ফেলা দেন।

ডেন্টাল সার্জন ডা. পূজা সাহা মনে করেন, দাঁতের জীবাণুর ইনফেকশন বা সংক্রমণ এড়াতে দাঁত পরিষ্কার রাখা জরুরি। দাঁতের সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় হলো:

১. দিনে অন্তত একবার দাঁত ফ্লস করা, যাতে দুই দাঁতের মাঝে জমে থাকা খাবার পরিষ্কার হয়।

২. সংক্রমণের কারণ প্লাক এবং ব্যাকটেরিয়া কমাতে এন্টিসেপটিক মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা।

৩. চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা। এ ছাড়া ধূমপান বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করা।

৪. নরম ব্রিস্টেলের টুথব্রাশ এবং ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা।

৫. দাঁতের সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।