চীনের নাগরিকদের সমান খরচে ইউনানে চিকিৎসা পাচ্ছে বাংলাদেশিরা

চীনের নাগরিকদের সমান খরচে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে ইউনানের ৪ হাসপাতাল। এইসব হাসপাতালে মেডিকেল ভিসা সহায়তার চিঠি চেয়ে মাসে কমপক্ষে এক হাজার অনুরোধ যাচ্ছে। তবে, সব রোগীকে তারা এখনই ভিসার আমন্ত্রণ দিতে পারছেন না। এ অবস্থার উন্নতি হতে আরও কিছু সময় লাগবে। তবে, জটিল রোগীরা ভিসা ইনভিটেশন পাচ্ছেন। 

গত সপ্তাহে ইউনানের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে এই সব তথ্য জানায়। 

তারা বলছেন, প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশি রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। 

কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিয়ন প্রদেশের শীর্ষ হাসপাতাল। যেখানে রোগীদের সেবার জন্য রয়েছে ইন্টার‍ন‍্যাশনাল সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট। এই ডিপার্টমেন্টের সব ডাক্তার ও নার্স ইংরেজি জানেন। বাংলার জন্য পাওয়া যায় ট্রান্সলেটরও। 

বাংলাদেশ থেকে আসা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ‍্যাস্ট্রোএন্টোরলজির পিএইচডি গবেষক ডা. আরিফিন ইসলাম ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে জানান, এখানকার চিকিৎসার মান যে কোনও বিবেচনায় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতই উন্নত এবং খরচও ঢাকার হাসপাতালের মতোই। 

আরিফিন ইসলাম বলেন, ‘কুনমিংয়ের রোবটিক সার্জানরা বেশ দক্ষ। তাদের পশ্চিমা দেশগুলোতে সার্জারি অভিজ্ঞতা থাকায় রোগীরা ভালো সেবা পাচ্ছেন।’ ডা. আরিফিন ইসলাম, পিএইচডি গবেষক, গ্যাস্ট্রএন্টেরোজি বিভাগ, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট

দ্য ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির এই বাংলাদেশি চিকিৎসক বলছেন, ‘এখানে রোগীকে ডাক্তাররা সার্বক্ষণিক মনিটর করেন। এই জন্য মোবাইল অ্যাপ রয়েছে, যাতে রোগীর এমআরআই ফিল্মও ডাক্তাররা নিঁখুতভাবে দেখতে পারেন। রোগীকে কি ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, রোগীর অবস্থার উন্নতি বা অবনতির সবশেষ তথ্য অ‍্যাপে লাইভ থাকে।’

ডা. আরিফিন  জানান, এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য ১৫  ইউয়ান খরচ করতে হয়, বাংলাদেশি টাকায় তা আড়াইশ টাকার আশেপাশে। আর ভর্তি রোগীকে এককালীন জমা করতে হয় ১০ হাজার ইউয়ান। এর মধ্যে খরচ বাদে বাকি টাকা চিকিৎসা শেষে ফেরত দেওয়া হয়। খুবই কম রোগীর ক্ষেত্রে এ খরচ ১০ হাজার অতিক্রম করে। 

ডা. আরিফিন জানান, রোগীর সঙ্গে একজন এটেনডেন্ট হাসপাতালে থাকতে পারেন। খাবারের জন্য আছে স্থানীয় হালাল রেস্টুরেন্টের সঙ্গে চুক্তিও। 

লিভার সিরোসিস, কার্ডিয়াক ও ক‍্যান্সার রোগীর ভিসা আবেদন বেশি যাচ্ছে দেশটিতে। জটিল রোগীর মেডিকেল ভিসার দরকার হলেও নিয়মিত চেকআপ ব্যবসায়িক বা টুরিস্ট ভিসাতেই হচ্ছে। 

কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন‍্যাশনাল এডুকেশন স্কুলের ডিন, লিউ ইয়াজিয়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের রোগীদের অংশীদারিত্ব মূলক সেবা চালু করায়, চীনের উন্নত চিকিৎসা দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করবে। লিউ ইয়াজিয়ে, ডিন, ইন্টারন‍্যাশনাল এডুকেশন স্কুল, কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট

দেশটি ঢাকার রোগীদের চিকিৎসা এই বছরের মার্চে শুরু হলেও- এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়‍ে বৃত্তি নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই পড়ছেন, এবং তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে রোগীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয় দারুন সেবা দিচ্ছেন বলেও জানান লিউ ইয়াজিয়ে। 

সামনের দিনগুলোতে দেশটিতে বাংলাদেশি রোগী বাড়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। 

ইউনান রাজ‍্যে বাংলাদেশিদের জন্য নির্ধারিত অন্য ৩ হাসপাতাল হলো দ্য ফার্স্ট পিপলস হসপিটাল অব ইউনান প্রভিন্স, চায়নিজ একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের ‘ফাওয়াই ইউনান হসপিটাল’ এবং ট্র্যাডিশনাল চায়নিজ মেডিকেল হসপিটাল (টিএমসি)।