হজমের সমস্যায় ভোগেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। হজমের সমস্যার কারণে বদহজম, পেটে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বমিসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই শুধু খাবার খেলেই হবে না। খাবার ঠিকমতো হজম হচ্ছে কিনা, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে হজম প্রক্রিয়ার কাজ সহজ হয়। এতে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব। আসুন জেনে নিন, হজম শক্তি বৃদ্ধির কিছু উপায়–
১. হজমশক্তি বৃদ্ধির জন্য খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার বেশি রাখুন। আঁশযুক্ত খাবার সহজে পানি শোষণ করে। একজন ব্যক্তির প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০ গ্রাম আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। আঁশযুক্ত খাবার দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে রক্ষা করে। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, কোলোরেক্টাল ক্যানসার। ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, বাদাম এবং বীজে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার থাকে।
২. প্রচুর পানি পান করুন। খাবার হজমের জন্য পানি অপরিহার্য। এটি মলকে নরম করার কাজে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি না পান করলে মলত্যাগের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। যা হজমের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বেশি সময় ধরে খেলে, অর্থাৎ ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় নিলে খাবার ভালো হজম হয়। এতে পেট বেশিক্ষণ ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এ কারণে ওজন ঠিক রাখা সহজ হয়। আস্তে আস্তে খাওয়া সচেতনতার একটি সাধারণ অভ্যাস। এতে হজমশক্তির উন্নতি ঘটে।
৪. মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ রয়েছে। স্ট্রেস অন্ত্রের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। দুর্বল অন্ত্র চাপ এবং উদ্বেগের অনুভূতিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, প্রকৃতিতে সময় কাটানো, যোগব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এতে হজমের কাজ সহজ হবে।
৫. সুস্থ থাকতে হলে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। খাবারের পর প্রতিদিন হাঁটার চেষ্টা করুন। হাঁটলে শরীরের মেদ ঝরে, ওজন ঠিক থাকে, মাংসপেশিও মজবুত থাকে। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ হজমকেও উৎসাহিত করে।
৬. এমন কিছু খাবার এবং পানীয় আছে, যা হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এই ট্রিগারগুলি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। যদি আপনি অন্ত্রের সমস্যা অনুভব করেন, তাহলে খেয়াল করুন কোন খাবারগুলি আপনার লক্ষণগুলিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই মশলাদার খাবার, দুগ্ধজাত দ্রব্য, গ্লুটেন, ক্যাফিন এই খাবারগুলি সীমিত খাওয়ার চেষ্টা করুন।
৭.অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম হজম, পুষ্টি শোষণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রিবায়োটিক এবং প্রোবায়োটিক উভয় সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য জন্য ভালো থাকতে পারে। প্রোবায়োটিক হল গাঁজানো খাবারের উপকারী ব্যাকটেরিয়া। যা পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং ডায়রিয়ার মতো লক্ষণগুলি কমায়। প্রিবায়োটিক হল অপাচ্য পদার্থ, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং কার্যকলাপকে উৎসাহিত করে। এতে হজমের কাজ সহজ হয়।
৮. ধূমপান পরিহার করুন। ধূমপান পরিহার করলে তা হজম প্রক্রিয়ার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ধূমপান অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে পরিবর্তন আনতে পারে, হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দিতে পারে। এবং বিভিন্ন ধরণের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এতে পেটের জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।
৯. ভেষজ চা পান করুন। ভেষজ চা পান করা একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, কারণ এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ থাকে যা শরীরকে সতেজ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
১০. পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। কম ঘুম গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল লক্ষণগুলিকে আরও খারাপ করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে ঘুমের নিয়ম বজায় রাখুন, শোবার জন্য একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করুন। এবং ঘুমানোর আগে ক্যাফেইন ও অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ