পিএসসির সুপারিশে ছেড়েছেন চাকরি, সরকারি নিয়োগ আটকে পুলিশ ভেরিফিকেশনে

রিপিট ক্যাডার জটিলতায় আটকে আছে ৪৮তম বিশেষ বিসিএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন। এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত নিয়োগের আশ্বাসে অনেকেই বেসরকারি মেডিকেলের চাকরি ছেড়েছেন। কেউবা বাদ দিয়েছেন উচ্চতর কোর্স। অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এই স্বাস্থ্য ক্যাডারদের। তবে মন্ত্রণালয় বলছে, শিগগিরই নিয়োগ পাবেন তাঁরা।

রাজধানীর সরকারি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের পার্কে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন ৪৮তম বিসিএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ক্যাডাররা। প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষা, ভাইভা, সুপারিশপ্রাপ্তি এমনকি স্বাস্থ্য পরীক্ষাও শেষ, কিন্তু প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় যোগদান করতে পারছেন না তিন হাজারেরও বেশি চিকিৎসক।

এঁদের একজন বলেন, ‘ভেরিফিকেশনের কাজ শুরু হচ্ছে। আমরা এখনও আশা করি যে দ্রুতই হয়তো আমাদের নিয়োগটা নিশ্চিত হবে। এই বিলম্বের কারণে আমরা এখন একটা শঙ্কায় রয়েছি।’

অক্টোবরের মধ্যেই নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা কর্মস্থলে যোগদান করতে পারবেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন ঘোষণায় বেসরকারি হাসপাতালের ভালো বেতনের চাকরি ছেড়েছেন কেউ কেউ। অনেকে বাদ দিয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রির পড়াশোনা।

একজন চিকিৎসক বলেন, ‘স্যারদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে আমি আমার ট্রেনিংটা ডিসকন্টিনিউ করি। শুধু আমি না, আমার মতো আরও অনেকেই। প্রায় ৭ বছর এমবিবিএস, ইন্টার্নশিপ শেষ করে এখন আমরা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন লাইফে আছি। আর্থিক বিষয়টা নিয়ে খুব সমস্যা ফেস করছি, যেটা খুবই বাস্তব একটা সমস্যা।’

দেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রয়েছে চিকিৎসক সংকট। পদসংখ্যার অর্ধেক জনবল দিয়ে যেনতেনভাবে চলছে চিকিৎসা।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সানাউল হাসান বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবায় সবচেয়ে বড় হচ্ছে জনবল সংকট। সেবা দেওয়ার মতো মোটামুটি সব যন্ত্রপাতি এই কমপ্লেক্সে আছে। কিন্তু জনবল সংকটের জন্য আমরা চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।’

শীঘ্রই ৪৮তম বিসিএস-এর নিয়োগ অটোমেশন প্রক্রিয়ায় হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘৪৮ এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শুধু পুলিশ ভেরিফিকেশন বাকি। এখান থেকে জনপ্রশাসনে সবকিছুই চলে গেছে। সেখান থেকে আমাদের কাছে আসবে। একটা জিনিস বলে ফেলা ভালো—পুরো পদায়ন প্রক্রিয়াটা অটোমেশন করা হচ্ছে।’

গত ১১ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ৮২০ জন সহকারী সার্জন ও ২৮০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত হন।