হজে যেতে এবার সবাইকে ৭ থেকে ১১টি স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি আরব। এসব টেস্ট করতে হবে সিভিল সার্জন অফিস ও নির্ধারিত সরকারি হাসপাতাল থেকে। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হজযাত্রীদের। অনেক জেলায় যন্ত্রপাতি না থাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঢাকায়।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শনবার দেখা যায়, ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন হজযাত্রীরা। কারণ সকাল আটটা থেকে অপেক্ষার পর বিকেল তিনটায় জানানো হয়, কাঙ্ক্ষিত পরীক্ষা এদিন হচ্ছে না। আসতে হবে পরদিন।
একজন হজযাত্রী বলেন, সম্মানিত হজযাত্রী লেখা আছে, কিন্তু আমাদের কী সম্মান দেখানো হচ্ছে সেটা বুঝতে পারছি না। আরেকজন বলেন, দুপুরে এসেও টাকা জমা দিতে পারিনি। চরম অব্যবস্থাপনা।
এ বছর হজে যাবেন ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এদের মধ্যে সুস্থদের ৭টি এবং অসুস্থদের ১১টি স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে হচ্ছে। এসব পরীক্ষার জন্য সিভিল সার্জন অফিস ও কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। আর সংকটটা সেখানেই।
অন্য জেলার হজযাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। সেখানে সব টেস্ট হচ্ছে না, পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান বলেন, আমরা চাই না কারও কোনো ভোগান্তি হোক।
হজ এজেন্সি বলছে, সরকারি হাসপাতালের সংকটের কারণে প্রভাব পড়তে পারে পুরো হজ প্রক্রিয়ায়। কারণ ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করতে হবে।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশর (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, থানা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলোকে যেন এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যে পরীক্ষাগুলো দেওয়া হয়েছে, অধিকাংশ জায়গায় এই সুবিধাগুলো নেই। একজন হজযাত্রী মাত্র এক মাসের জন্য যাবেন, তার জন্য এত পরীক্ষা করা– এটা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন আছে। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
২০২৫ সালে ৮৭ হাজার হজযাত্রীর মধ্যে সৌদিতে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬৯ হাজার বাংলোদেশি। এরপরই ফিটনেস সার্টিফিকেট চালু করেছে সৌদি আরব।