হামের টিকা কাজ করছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। রাজধানীর তিনটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুদের ১৫ শতাংশ, টিকা নেওয়ার পরও হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালগুলোয় সঠিক পরিসংখ্যান থাকে না। তাই এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা জরুরি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগারগাঁওয়ের শিশু হাসপাতালে হামের ওয়ার্ডে পাশাপাশি ভর্তি তাহমীম, তাওহিদুল, আয়েশা ও সুলেখা। কিছুটা দূরে, দুটি পাশাপাশি শয্যায় আছে সাইফান ও মুসা। ৭ থেকে ১৩ মাস বয়সী এসব শিশুকে টিকা দেওয়া আছে।
মহাখালীর ডিএনসিসি ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও একই চিত্র। ৬ মাস বয়সে মেয়েকে টিকা দেন শ্যামপুরের নজরুল ইসলাম। শিশুটির বয়স এখন ৮ মাস, লড়ছে হামের সঙ্গে।
টিকা দেওয়ার পরও, হাম থেকে মুক্তি না মেলার কারণ খুঁজছেন অভিভাবকরা। চিকিৎসকরা বলছেন, টিকার মাস খানেকের মধ্যেই এন্টিবডি তৈরি হয়। তবে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর ক্ষেত্রে এটি নাও হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কর্নেল (অব.) ডা.নাজমুল হুদা খান বলেন, যারা অপুষ্টিতে ভোগে, তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে যেটি ছিল, এখন হচ্ছে না। তাই শিশুদের টিকাদান ৬ মাসে এগিয়ে আনা হয়েছে।
শিশুরা টিকা নেওয়ার পরও কেন হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে বড় গবেষণার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কর্নেল (অব.) ডা.নাজমুল হুদা খান বলেন, টিকাদান থেকে শুরু করে, আক্রান্তের অবস্থা,কোন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ–এসবই মনিটর করতে হবে।
শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা.মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, টিকা দেওয়ার সময় শিশুর শরীর থেকে রক্ত নিয়ে দেখা হয়, তার এন্টিবডি কী রকম। রোগী ভালো হয়ে গেলে তখন রক্তের নমুনা রেখে আবার দেখা হয়, এন্টিবডির অবস্থা। এই ধরনের গবেষণা দরকার।
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৮৩১ জন। পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।