জলাতঙ্কের লক্ষণের পরও অলৌকিকভাবে সেরে উঠল কিশোর

জলাতঙ্কের লক্ষণ থাকার পরও ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের সুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে অত্যন্ত বিরল এক ঘটনা বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তর প্রদেশের মির্জাপুরে করন নামের এক কিশোর জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও সুস্থ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেই কিশোরকে একটি কুকুর কামড়ায়। এরপর সে জলাতঙ্কের দুটি টিকা নিয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরই তার শরীরে জলাতঙ্কের মারাত্মক লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে, যার মধ্যে ছিল পানি দেখে আতঙ্কিত হওয়া বা হাইড্রোফোবিয়া, অতিরিক্ত লালাক্ষরণ এবং অস্বাভাবিক আওয়াজ করা।

এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে বারাণসীর একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ২২ দিন তার চিকিৎসা চলে। নিয়মিত ৫ টিকার পাশাপাশি তাকে আরও ২টি বিশেষ টিকা দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে তার সংক্রমণ কমে আসে এবং সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করন এখন নিয়মিত স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে।

এই খবরটি প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে, জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও কি কেউ সত্যিই বেঁচে ফিরতে পারে?

চিকিৎসকেরা বলছেন, লক্ষণ প্রকাশের পর সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা বিরল হলেও অসম্ভব নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মতে, জলাতঙ্কের লক্ষণ একবার দেখা দিলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। বিশ্বজুড়ে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন রোগী এই অবস্থা থেকে বেঁচে ফিরেছেন, তবে তাঁদের অনেকেরই গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা থেকে গেছে।

জলাতঙ্ক হলো একটি ভাইরাসবাহিত সংক্রমণ যা স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। শরীরে প্রবেশের পর এই ভাইরাস স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে পৌঁছে যায়। একবার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছে লক্ষণ দেখা দিলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের অন্যান্য অংশে মারাত্মক প্রদাহ ও ক্ষতি তৈরি করে।

প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, দুর্বলতা, ক্ষতের চারপাশে অস্বাভাবিক জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি। রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইড্রোফোবিয়া বা পানিভীতি, মানসিক অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, দৃষ্টিভ্রম, গিলতে অসুবিধা, পক্ষাঘাত ও শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দেয়।

বিশ্বজুড়ে জলাতঙ্কের লক্ষণ প্রকাশের পরও বেঁচে যাওয়ার অল্প কয়েকটি ঘটনা রয়েছে। ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী জিয়ানা গিজ জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও বেঁচে ফিরেছিল। তাকে মিলওয়াকি প্রোটোকল নামের একটি বিশেষ চিকিৎসাপদ্ধতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই প্রোটোকলটিকে জলাতঙ্কের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।