দু-চারটি পরীক্ষা করাতেই মাস পেরিয়ে যায় সরকারি হাসপাতালে। শয্যার খোঁজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দৌড়ান রোগীর স্বজনেরা। হেল্প ডেস্কের অভাবে দুর্ভোগ বাড়ে কয়েক গুণ। এসব কারণেই হাসপাতালের পাশেই গড়ে ওঠে নামসর্বস্ব বেসরকারি ক্লিনিক।
দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির কথা জানান রোগী ও স্বজনেরা। তেমনই একজন লক্ষ্মীপুরের মাহিনুর বেগম। স্ট্রোকে আক্রান্ত স্বামীকে নিয়ে চলতি মাসে এ পর্যন্ত ৪ বার এসেছেন জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে। তবে রোগ ধরা পড়েনি এখনো।
মাহিনুর বেগম জানান, ৪টি পরীক্ষা করা হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আরেকটি পরীক্ষার তারিখ। এরপর আবার ডাক্তারের সিরিয়াল নিতে হবে। দীর্ঘ এ যাত্রায় ক্লান্ত তিনি। ঢাকায় থাকার জায়গাও নেই। তাই বেসরকারিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।
সরকারির অনেকটা উল্টো চিত্র বেসরকারিতে। তাৎক্ষণিক সেবা মিলবে, তবে গুণতে হবে কয়েকগুণ অর্থ।
সরকারিতে সক্ষমতার কয়েকগুণ রোগীর চাপ থাকলেও তথ্যকেন্দ্র বা হেল্প ডেস্ক আছে হাতেগোনা দু-একটির। একটি শয্যার জন্য মুমুর্ষূ রোগী নিয়ে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছোটেন স্বজনেরা। সিট না পেলে বাধ্য হন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ভোগান্তি কমাতে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ এবং আধুনিক কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা.লিয়াকত আলী বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টরকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতেই হবে। আমাদের যে জনসংখ্যা বেড়েছে, রোগের যে পরিবর্তন হয়েছে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো, জনবল ও টেকনোলজির পরিবর্তন দরকার।’
এবারে স্বাস্থ্য বাজেট অন্যবারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। তাই বিশেষায়িত হাসপাতালের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়েও সেবার মান উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।