সেপ্টেম্বর যেন ডেঙ্গুতে রেকর্ড গড়ার মাস, হামে মৃত্যুর মিছিলও থামছে না

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর প্রাণহানি দুইশ ছাড়াল। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের ২৩ দিনেই প্রাণ গেল ১০৪ জনের। প্রতিমাসে আক্রান্ত বাড়ছে দ্বিগুণ হারে। জুনে ৩ হাজার, জুলাইয়ে ৯ হাজার রোগী হলেও,আগস্টে বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজারে। আর সেপ্টেম্বরের এ কদিনেই রোগীর সংখ্যা ৩১ হাজার ছাড়িয়েছে। 

এদিকে, কয়েক মাস ধরে চলা হামে, মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। বুধবারও প্রাণ গেছে ১১ শিশুর। টানা ১ মাসেরও বেশি সময় প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে হাজারের বেশি।

সেপ্টেম্বর যেন ডেঙ্গুতে রেকর্ড গড়ার মাস। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাজারের বেশি রোগী আক্রান্ত হয় ৩ সেপ্টেম্বর। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর রোগীর সংখ্যা ১৪শ ৬৩। সবশেষ ২২ সেপ্টেম্বর এখন পর্যন্ত একদিনে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৮৭২ জন আক্রান্ত হয় ডেঙ্গুতে।

বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে আগামী মাসেও তা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই পরিবার থেকে সচেতন না হলে এবং সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কঠিন হতে পারে।  

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, ‘যেসব জায়গাতে ডেঙ্গুর বিস্তার হচ্ছে সেই হটস্পটগুলোকে ব্যাপক মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নিয়ে আসতে হবে। মশার লার্ভা তথা উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য এটাই কার্যকরী উপায়।’

এদিকে, ডেঙ্গুর পাশাপাশি আক্রান্তের রেকর্ড গড়ছে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যু। প্রতিরোধযোগ্য এ রোগটিতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল এ বছরের মে মাসে। একাধিক বার ১০ জনের বেশি মৃত্যু হয় সেসময়। ২৯ মে'তে সবশেষ ১০ জনের মৃত্যু হয়। প্রায় ৪ মাস পর ১১ জনের বেশি মৃত্যুর সাক্ষী হলো দেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম ও উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেছে ১১ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২শ ৭০ জনের। এ নিয়ে  মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৬ জনে।