ক্যানসার হাসপাতালে রেডিও-কেমোথেরাপির সিরিয়াল পেতে লাগে দেড় বছর

দেশের একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি ক্যানসার হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে রোগী, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোগান্তিও। রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপির জন্য রোগীদের অপেক্ষা করতে হয় দেড় বছর পর্যন্ত। অপারেশনের সিরিয়াল পেতে লাগে দীর্ঘ সময়। এক যুগ আগে (২০১৪ সালে) যখন এটি ৩০০ শয্যার হাসপাতাল, তখন জনবল ছিল ১ হাজার ২১৬ জন। আর এখন ৫০০ শয্যা হলেও ডাক্তার-নার্স এবং অন্যান্য কর্মীর সংখ্যা উল্টো কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩০ জনে। 

সরকারি হাসপাতাল, খরচ কম, তাই দূর-দূরান্তের রোগীরাও ভিড় করেন রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।

নওগাঁর রাণীনগরের সাড়ে ৫ বছর বয়সী সাফিয়া। রেডিওথেরাপি না দিলে কেটে ফেলতে হতে পারে হাত। কৃষক বাবা রফিকুল ইসলাম হাসপাতালে এসে জানতে পারেন, সেই থেরাপি মিলবে দেড় বছর পর। 

রফিকুল বলেন, ‘তারা বলছে দেরি করলে এটা আরও ছড়িয়ে যাবে, বেশি হয়ে যাবে। ওই জন্য এইখানে আসলাম। এইখানে কাগজ জমা দিলাম ওরা বললো–কালকে আবার আসেন। গরীব মানুষ জন্যই এইখানে আইছি। এখন ভর্তি দরকার, ভর্তি বলতে কেমোটা খুব দ্রুত দরকার।’

পাশে অপেক্ষায় নেত্রকোণার বারহাট্টার তাহের খান; রেডিওথেরাপি নিতে এসেছেন নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ১ বছর পর। 

তিনি বলেন, ‘টাকা -পয়সা থাকলে কেমো আরও আগে দিতাম। নিতে পারছি না, তাই তাদের দেওয়া সময়মতো আসলাম।’ 

প্রতিদিন এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে সেবা নেন দেড় হাজার রোগী। তবে কেমোথেরাপি, এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। 

হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘রোডিওথেরাপি পাইছি প্রায় দেড় বছর পরে। রেডিওথেরাপি দেরি হওয়ার ফলে রোগীর অবস্থা আরও বেশি খারাপ হয়ে গেছে।’

আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘এইখানে যেখানেই যাবেন সেখানেই তিন ঘণ্টা, চার ঘণ্টা, পাঁচ ঘণ্টা দাড়ায় থাকতেই হবে।’

থেরাপি দিতে দেরি হলে ক্যানসারের কোষগুলো বাড়তে থাকে দ্রুত। বেড়ে যায় জটিলতা। 

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগী বলেন, ‘সিরিয়াল দিতে পারছি না, লোক বেশি এই জন্য ডেট ঘুরায় দিতাছে।’ 

কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীর চাপ বাড়লেও বাড়েনি হাসপাতালের জনবল। দুই শিফটে সেবা দিয়েও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তারা। 

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, ‘এই মুহূর্তে রেডিওথেরাপি দেওয়ার কোনো ক্যাপাসিটিই নাই।’

সম্ভাব্যতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্যতা বা এইটার সমাধানের যে পথ, তাতে আমাদের মেশিন বাড়াতে হবে। মেশিন শুধু ক্যানসার হাসপাতাল নয়, মেশিন বাড়াতে হবে সারা দেশ কেন্দ্রীক।’

পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে ক্যানসারের রোগী অন্তত ১৩ লাখ। প্রতি বছর আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ২ লাখ। আর মৃত্যু হয় দেড় লাখের।