অবকাঠামোর অভাবে এখনো শোচনীয় দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা। পরিসংখ্যান মতে, আক্রান্তদের ৯২ শতাংশের বেশি সঠিক সেবা পান না। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, এ বিষয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা না থাকায় সচেতনতা তৈরি করা যাচ্ছে না। সংকট কাটাতে কমিউনিটি পর্যায়ে 'মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ' এর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত।
তবে, প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। আর নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রায় ৪০০ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সারাবিশ্বে মানুষের অক্ষমতার অন্যতম কারণ বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা।
বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, পরিসংখ্যানের চেয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক। রাতারাতি চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই কমিউনিটি সেবা দানকারীদের 'মানসিক স্বাস্থ্য প্রাথমিক চিকিৎসা' প্রশিক্ষণ দেয়ার তাগিদ তাদের।
সট: ফাতেমা পারভীন পুতুল, সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন
বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য কী– নো হেলথ উইদাউট মেন্টাল হেলথ (মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে স্বাস্থ্য ভালো নয়)। একটা শিশু জানেই না মানসিক স্বাস্থ্য কী। সম্প্রতি কিন্তু বিভিন্ন স্কুলে শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একইভাবে যদি এই শিশু বয়সেই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়টি শুরু করা যায়, তাহলেই কিন্তু সে জানতে পারে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়া দরকার।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ‘সোশ্যালিস্টিক নয়, যেটার কারণে মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে চায় না। মানসিক স্বাস্থ্যের পেশাজীবী যারা রয়েছে– ১৮ কোটি মানুষের জন্য সাইক্রিয়াটিস্ট মাত্র ৪০০ জন। সাইকোলজিস্টের সংখ্যা ৭০০ জনের মতো, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। পাবনা মানসিক স্বাস্থ্য কলেজ এবং ঢাকায় জাতীয় মানিসক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বাইরে কোথাও কিন্তু মানসিক সেবা পাওয়ার সুযোগ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নাই।’
মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক জানান, লোকবল সংকট থাকলেও ৭টি ইউনিয়নে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শুরু হয়েছে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালকঅধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার বলেন, ‘যেখানে সাইকিয়াট্রিক বিভাগ রয়েছে, তারা যদি টেলিসাইকাট্রিক সেবা দেন তখন এই সমস্যাটা অনেকটাই দূর করা যাবে।’
প্রান্তিক পর্যায়ে মানসিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।