নভেম্বরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকার শঙ্কা

ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমিয়ে আনার দাবি সরকারের, তবে কমেনি উদ্বেগ। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান সরকার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা চার ভাগের এক ভাগে নামিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অক্টোবরের পাশাপাশি নভেম্বরেও অব্যাহত থাকতে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ। 

বৃহস্পতিবারও ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক।  
 
প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বাড়ছে প্রাণহানিও। হাসপাতালে বাড়তি রোগী, স্বজনদের চোখে-মুখে উদ্বেগ। বৃহস্পতিবারও ডেঙ্গুতে প্রাণ গেছে ১০ জনের।

তবে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপে আক্রান্ত ও মৃত্যু কমেছে বলে দাবি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা চার ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ‘আমাদের দুই হাজার চিকিৎসককে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এই প্রশিক্ষণ দিয়েছি বলেই বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৩৫ জন ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেছিল। এই বছর এখন পর্যন্ত ৩০৭ জন মৃত্যুবরণ করেছে। অর্থাৎ আমাদের সময়ে মৃত্যুর হার ৪ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।’।   

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন এডিস মশার বিস্তার রোধ। এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিচ্ছেন দক্ষিণ ঢাকার প্রশাসক।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন–ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আজকে যে ডেঙ্গু রোগের প্রভাব, এটা থেকে আমরা রক্ষা পাব যদি আমরা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকতে পারি। আমরা যে যেখানে আছি আসুন ঢাকা শহরটাকে পরিষ্কার রাখি।’

এদিকে, মৌসুমি পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, অক্টোবরের পাশাপাশি নভেম্বরেও অব্যাহত থাকতে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এখনই প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠার শঙ্কা তাদের।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘অনেক সময় বাড়ির মালিক নিজেও জানেন না যে, তার বাড়ির নিচ তলায় এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন জানে না। সেই বাড়িতে একাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। এই জায়গাগুলোতে টার্গেট করে যদি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, লার্ভা নষ্ট করা যায় তাহলে সেখানে সমাধান পাওয়া সম্ভব।’ 

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩৩১ জন। এরমধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনেই মারা গেছেন ৮৬ জন। আর বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৯৪৩ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জনে।