গ্রীষ্মের তীব্র গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়া, ঘাম বেশি হওয়া আর পানিশূন্যতা। এসব সমস্যা খুবই সাধারণ। এমন সময়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখা ও সতেজ রাখার সহজ উপায়গুলোর একটি হলো তরমুজ। রসালো এই ফল শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর।
তরমুজে প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি পানি থাকে, যা শরীরের পানির ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে। তাই গরমে তরমুজ খেলে শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা থাকে এবং ক্লান্তি কমে যায়।
এ ছাড়া তরমুজে ক্যালরি খুব কম। ১০০ গ্রামে মাত্র প্রায় ৩০ ক্যালরি। ফলে এটি খেলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি থাকে না। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। তাদের জন্যও তরমুজ একটি ভালো বিকল্প।
তরমুজে প্রাকৃতিক চিনি ও কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। গরমে দুর্বল লাগলে বা ক্লান্তি কমাতে এটি কার্যকর একটি ফল।
এই ফলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ফাইবার। এসব উপাদান শরীরের নানা কাজে সাহায্য করে। হৃদযন্ত্র ভালো রাখা থেকে শুরু করে হজম শক্তি বাড়ানো পর্যন্ত।
তরমুজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে লাইকোপিন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখে।
তরমুজে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও অন্যান্য উপাদান চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে ভূমিকা রাখে।
অনেকে তরমুজ খাওয়ার সময় বীজ ফেলে দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বীজেও রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও নানা মিনারেল। ভেজে বা শুকিয়ে খেলে এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
তরমুজ উপকারী হলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। বেশি খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে। এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখা, পানিশূন্যতা দূর করা এবং দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য তরমুজ একটি সহজ, সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর ফল। তবে পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।