মাইক্রোওভেন নাকি এয়ার ফ্রায়ার, কোনটিতে ঠিক থাকবে পুষ্টিগুণ?

গ্যাসের সমস্যা, ব্যস্ত জীবন। সব মিলিয়ে এখন অনেকের রান্নাঘরে জায়গা করে নিয়েছে মাইক্রোওভেন আর এয়ার ফ্রায়ার। দ্রুত রান্না, কম তেল, সব সুবিধাই মেলে এই আধুনিক যন্ত্রে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এভাবে রান্না করলে খাবারের পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে তো?

সহজ ভাবে বললে, দুটো যন্ত্রেই খাবারের পুষ্টিগুণ অনেকটাই বজায় থাকে। তবে কীভাবে রান্না করছেন, সেটাই আসল বিষয়।

মাইক্রোওভেনে রান্না করলে কী হয়?

মাইক্রোওভেন খুব অল্প সময়ে খাবার গরম বা রান্না করে। এতে পানি কম লাগে, সময়ও কম লাগে। আর এই কম সময়ই পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি’-এর মতো সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান সহজে নষ্ট হওয়ার সুযোগ পায় না।

সবজি যেমন জুকিনি, ফুলকপি বা গাজর, মাইক্রোওভেনে রান্না করলে তাদের ভেতরের খনিজ উপাদানও অনেকটা অক্ষত থাকে। অর্থাৎ কম সময় রান্না মানেই কম পুষ্টি নষ্ট।

এয়ার ফ্রায়ারে রান্না

এয়ার ফ্রায়ার এখন খুব জনপ্রিয়। কারণ এতে খুব কম তেলে মুচমুচে খাবার তৈরি করা যায়। ভাজাভুজি পছন্দ করেন, কিন্তু তেল এড়িয়ে চলতে চান। তাহলে এটি ভালো বিকল্প। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, এয়ার ফ্রায়ারে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে।

এই বেশি তাপের কারণে কিছু পুষ্টি, যেমন ভিটামিন সি বা ফোলেট, অনেকটা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যদি ১০ মিনিট বা তার বেশি সময় ধরে রান্না করা হয়। তাহলে খাবারে পুষ্টিগুণ কমার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সময় ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সব খাবারের জন্য এক নিয়ম নয়

সব ধরনের খাবার একভাবে রান্না করা ঠিক নয়। খাবারের ধরন বুঝে যন্ত্র বেছে নেওয়াই ভালো। মাইক্রোওভেন ব্যবহার করতে পারেন যদি ভিটামিন সি ও বি’র মতো পুষ্টি ধরে রাখতে চান। কম পানি দিয়ে রান্না করতে চান। দ্রুত রান্না দরকার।

আর এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন যদি কম তেলে ভাজা বা রোস্ট খাবার চান। টম্যাটো, গাজর, ক্যাপসিকামের মতো সবজি রান্না করেন। এই সবজিগুলোতে থাকা কিছু উপাদান, যেমন বিটা-ক্যারোটিন বা লাইকোপেন, এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে শরীরে সহজে শোষিত হয়।

মাইক্রোওভেন আর এয়ার ফ্রায়ার দুটোই আধুনিক রান্নাঘরের দরকারি যন্ত্র। পুষ্টিগুণ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় এমনটা নয়। বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে খাবার যেমন দ্রুত রান্না হয়। তেমনই পুষ্টিও অনেকটা অটুট থাকে।

তাই যন্ত্র নয়, রান্নার পদ্ধতিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কম সময়, কম তাপ আর সঠিক উপায়ে রান্না। এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখলেই খাবার থাকবে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর।