বিএনপি-জামায়াতের ৭২ ঘণ্টা অবরোধ শুরুর আগের রাতে চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে দুটি বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাতের এসব অগ্নিকাণ্ডে বাসের ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের গরীবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় একটি মিনিবাসে আগুন জ্বলে উঠে বলে জানায় ইনডিপেন্ডেন্টের চট্টগ্রাম ব্যুরো।
গাজীপুর থেকে ইনডিপেনডেন্টের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়।
গাজীপুর: শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গড়াগড়িয়া মাস্টার বাড়ি এলাকায় কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে পেট্টোল ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ৭/৮টি সিটসহ বাসের সিলিং পুড়ে যায়।
শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গড়াগড়িয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার রাজা বাদশা বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা রাজা-বাদশা পরিবহন নামের বাসে আগুন দেয়।
রাজা বাদশা কাউন্টারের ব্যবস্থাপক অভি আরাফাত অনিক বলেন, ময়মনসিংহের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে প্রতিদিনই রাজা বাদশা পরিবহনের বাস পাবনার উদ্দেশে চলাচল করে। সন্ধ্যা ৭টায় স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে ১১জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পাবনার উদ্দেশে রওনা দেয় এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি কাউন্টারে এসে পৌঁছে। সেখান থেকে যাত্রী নেওয়ার সময় পৌনে ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে বাসের পেছনের অংশে পেট্টোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত চলে যায়। আশপাশ থেকে পানি এনে বাসের পেছনের অংশে জানালার গ্লাস ভেঙে আগুন নেভানো হয়। ততক্ষণে আগুনে বাসের ৭/৮টি সিট ও সিলিং পুড়ে যায়। আগুন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসে থাকা ১১জন যাত্রী দ্রুত নেমে পড়ায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মাওনা হাইওয়ে থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তথ্য নিয়ে জেনা গেছে, দুইটা সিট পুড়ে ছিল। বাস নিয়ে চালক গন্তব্যের উদ্দেশ্য চলে গেছে।
চট্টগ্রাম: নগরীর জিইসি এলাকায় আগুনে পুড়ে গেছে একটি মিনিবাস। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটির আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
আশপাশের দোকানদাররা বলছে রাত ৮টার দিকে তারা দোকান বন্ধ করে চলে যান। আগুনের খবর পেয়ে ছুটে আসেন। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তারা তা জানেন না।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খলিলুর রহমান বলেন, কিভাবে আগুন লেগেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তা স্বাভাবিক অগ্নিকাণ্ড নয় বলে মনে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) উত্তরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পংকজ দত্ত বলেন, মঙ্গলবারের অবরোধ কর্মসূচিকে সামনে রেখে পুলিশ ঘটনাস্থলের অদূরে দায়িত্ব পালন করছিল। আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা সেখানে ছুটে যায়। পাশেই একটি বাড়িতে বাসে করে কিছু লোক বেড়াতে এসেছিলেন। এক পর্যায়ে বাসটিতে আগুন লাগে। এসময় বাসের চালক হেলপার কিংবা যাত্রী কেউ ছিল না। এই ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তারা।