সাগরে ব্লক: ঢাকায় এক্সন মবিল, মার্চে দরপত্র

বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে ১৫টি ব্লকের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রভাবশালী কোম্পানি এক্সন মবিল আবারও ঢাকায় এসেছে। বঙ্গোপসাগরে ব্লক বরাদ্দ এবং নানা বিষয় নিয়ে মার্কিন এই কোম্পানির কর্মকর্তারা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি নির্ধারকের সাথে আলাপ করবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার তারা প্রথম বৈঠকে বসবেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সাথে। এরপর বৈঠক করবেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকারের সাথে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর এক্সন মোবিলের কর্মকর্তাদের এটি প্রথম সফর। 

এদিকে বঙ্গোপসাগরে ২৬টি ব্লক বরাদ্দ দিতে আগামী মাসে অর্থাৎ মার্চে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে পেট্রোবাংলা। এ জন্য মডেল উৎপাদন বণ্টন চুক্তি( পিএসসি)সহ অন্যান্য কার্যক্রমে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ২৬টি ব্লকের মধ্যে ১১টি অগভীর এবং বাকী ১৫টি গভীর সমুদ্রে।  

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত বছরের মার্চে প্রথম আগ্রহ প্রকাশ করে এক্সন মবিল। সে সময় তারা গভীর সমুদ্রের ১৫টি ব্লক ইজারা চেয়েছিল। গত ১৬ জুলাই আরেকটি চিঠি দেয় মার্কিন কোম্পানিটি। সেই চিঠিতে ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার গভীর সমুদ্রে বিনিয়োগের প্রস্তাবও দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছে। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সরকার কোনো একক কোম্পানিকে সমুদ্রের সব ব্লক দিতে আগ্রহী নয়। এক কোম্পানিকে দুই থেকে চারটির বেশি ব্লক দিতে চায় না সরকার। তাছাড়া এ মুহূর্তে সরকার দরপত্র ছাড়া কাউকে ব্লক দিতে আগ্রহী নয়। এই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল বৈঠক করবেন এক্সন মোবিলের কর্মকর্তারা। 

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ প্রসঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে আজ সোমবার বলেন, ‘মঙ্গলবার এক্সন দেখা করবে। দেখা যাক তারা কি বলে।’ 

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। ফাইল ছবি

এদিকে, সমুদ্রে ২৬টি ব্লক বরাদ্দ দিতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের সব কাজ শেষ করেছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকারের ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে বলেন, ‘আগামী মাসের মধ্যে দরপত্রটি ছাড়া হবে। সময় দেয়া হবে ছয় মাস। 

গত এক দশকে মার্কিন কোম্পানি কনোকোফিলিপস এবং কোরিয়ার দাইয়ু বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান কাজ শেষ না করেই চলে গেছে। তাদের অভিযোগ ছিল, গভীর সমুদ্রে প্রাপ্ত গ্যাসের যে দাম ধরা হয়েছে তা থেকে বিনিয়োগের টাকা উঠে আসবে না। এর মধ্যে একাধিকবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইওসির কাছ থেকে তেমন সাড়া মেলেনি।’ 

এবারের মডেল পিএসসি অনেকটা ভিন্ন। ২০১৯ সালের মডেল পিএসসি অনুযায়ী, অগভীর ও গভীর সমুদ্রের প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬ ও ৭ দশমিক ২৫ ডলার। সংশোধিত পিএসসিতে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে ব্রেন্ড ক্রুডের ১০ শতাংশ দরের সমান। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে ক্রুডের দাম ১০০ ডলার হলে গ্যাসের দাম হবে ১০ ডলার। বর্তমান পিএসসি অনুসারে অগভীর সমুদ্রে পাওয়া গ্যাসে বাংলাদেশের হিস্যা ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং গভীর সমুদ্রে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ রয়েছে। সংশোধিত পিএসসির খসড়ায় বাংলাদেশের হিস্যার অংশ অগভীর সমুদ্রে ৪০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং গভীর সমুদ্রে ৩৫ থেকে ৬০ শতাংশের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে গ্যাস রপ্তানির সুযোগ।

এ সব কারণে আন্তর্জাতিক অনেক কোম্পানি সাগরে ব্লক নিয়ে আগ্রহী। ইতিমধ্যে মার্কিন আরেক মার্কিন কোম্পানি শেভরন জার্মানির স্লাম বার্জারের কাছ থেকে বঙ্গোপসাগরের দ্বিমাত্রিক জরিপের ডেটা কিনেছে। 

শেভরনের বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট গতকাল রোববার হবিগঞ্জে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাগরে ব্লক বরাদ্দ নিতে আগ্রহী শেভরন। এ কারণে তারা ডেটা নিনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’ 

স্লাম বার্জার বাংলাদেশের পক্ষে সাগরে দ্বিমাত্রিক সার্ভে করে সেই ডেটা বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রি করছে। তবে এখন পর্যন্ত শেভরন ছাড়া অন্য কোন কোম্পানি কেনেনি। 

বর্তমানে শুধু ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি অগভীর সমুদ্রের দুটো ব্লকে কাজ করছে। কিছু দ্বিমাত্রিক জরিপ ছাড়া কোনো কূপ খনন করেনি তারা। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ইতিবাচক ফলাফল জানাতে পারেনি।