যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের জারি করা নির্দেশনার বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি গত ১৫ বছরে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ-সংক্রান্ত কমিটি করা হলেও তাদের কার্যক্রম সীমিত। গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিমালা আইনে রূপান্তরেও নেই তেমন উদ্যোগ। রোববার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় উঠে আসে এসব তথ্য।
যৌন হয়রানি বন্ধে ২০০৯ সালে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে যুগান্তকারী রায় দেয় হাইকোর্ট। প্রতিরোধ কমিটি গঠনসহ এই নীতিমালা বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু গত ১৫ বছরে কতটা অগ্রগতি হলো আর এখন কী করণীয়--এ নিয়েই এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বেসরকারি আইনি সহায়তা সংস্থা ব্লাস্ট।
সভায় বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি-বেসরকারি অনেক কর্মক্ষেত্রেই যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নেই কোনো কমিটি। আর বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি থাকলেও অভিযোগ পাওয়া ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে রয়েছে ব্যাপক ঘাটতি।
হাইকোর্টের সেই নীতিমালা, দ্রুত আইনে রূপান্তরে সরকারের প্রতি চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত বিশ্লেষকদের। তবে নতুন আইন নয়, বরং বিদ্যমান আইনকেই যুগোপযোগী করার কথা বলছেন অনেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা বলেন, ‘কেউ যদি সারাক্ষণ একটি মেয়েকে ফলো করতে থাকে, স্টকিং নিয়ে কিন্তু কোনো আইন নেই। তার বিরুদ্ধে যে আমি প্রটেকশন অর্ডার দেব বা তাকে বলব ৫০০ গজ দুরে থাকতে এমন কোনো সুযোগ নেই। এটা কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই হয় যে পিছু নেওয়া। একটা মেয়েকে প্রত্যেকদিন ডিসটার্ব করছে, তার পিছু ধরছে। এটাকে আমাদের দণ্ডবিধির ভেতরে আনতে হবে।’
১৫ বছরেও যেসব প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি, তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হচ্ছে বলেও জানালেন আইনজীবীরা।
সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান বলেন, ‘জাজমেন্ট অ্যাজ পার কনসটিটিউশন অনুযায়ী এটা সর্বক্ষেত্রে ইমপ্লাইড। অতিস্বত্তরই আপনারা দেখতে পাবেন কার কার বিরুদ্ধে কমপ্লেইনটা হচ্ছে। হলে তিনি সাজা পাবেন।’
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তায়ন হলে অবন্তিকার মতো কাউকে জীবন দিতে হতো না বলে মত বিশ্লেষকদের।