জিম্মিদশা নিয়ে যা বললেন এমভি আব্দুল্লাহর ক্যাপ্টেন 

প্রায় একমাস জিম্মি থাকার পর জাহাজসহ মুক্তি পেয়েছেন সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে অপহৃত এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিক। জিম্মি থাকার সময়গুলো কেমন ছিল, তা নিয়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলেছেন জাহাজটির ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদ। 

শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে ২৩ নাবিকসহ সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছ থেকে মুক্তি পায় বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। রোববার দুপুরে মুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপ। 

মুক্তির পর দুবাইয়ের পথে রয়েছেন এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকরা। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় চট্টগ্রামের এস আর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিমের কাছে একটি বার্তা আসে এমভি আবদুল্লাহর ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদের কাছ থেকে। বার্তায় বলা হয়, জিম্মি জাহাজ মুক্ত হয়েছে। নাবিকরা দুবাইয়ের পথে রওনা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনের কিছু পরে জাহাজটির ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদের সঙ্গে কথা বলে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন। সে সময় তিনি জাহাজটির সঙ্গে সোমালিয়ার জলসীমা পার হচ্ছিলেন। আব্দুর রশীদ জানান, জাহাজটির নাবিকরা সবাই সুস্থ্য আছেন। খাবারের সমস্যাও নেই। তিনি আশা করছেন, ৬ দিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পৌছাবে এমভি আব্দুল্লাহ। 

জিম্মি থাকা অবস্থা কেমন ছিল জানতে চাইলে আব্দুর রশীদ বলেন, ‘জলদস্যুরা সব সময় বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যমগুলো পর্যবেক্ষণ করত। প্রচারিত সংবাদ নিয়ে অনেক সময় আমাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হতো। কিছুটা মারমুখী থাকত জলদস্যুরা। বিশেষ করে মোবাইলে লুকিয়ে কথা বলার খবরে তারা রাগ দেখাতো।’

মুক্তি পেয়ে সরকার ও মালিক প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান এই নাবিক। তিনি জানান, জলদস্যুরা ছোট বোটে করে জাহাজ থেকে নেমে যায়। এরপর দুইটি ইউরোপীয় যুদ্ধজাহাজ তাদের কাছে আসে। বাংলাদেশ সময় তিনটার দিকে তারা দুবাইয়ের পথে রওয়া হন। ইউরোপীয় জাহাজ দুটি পাহারা দিয়ে তাদের নিয়ে যাচ্ছে। 

আব্দুর রশীদ বলেন, ‘স্প্যানিশ ও ইতালিয়ান দুটি যুদ্ধজাহাজ পাহারা দিয়ে আমাদেল সোমালিয়ার জলসীমা পার করে দিচ্ছে। কিছুদূর গিয়ে স্প্যানিশ জাহাজটি ফিরে আসবে আর ইতালিয়ান জাহাজটি ডেঞ্জার জোন পর্যন্ত নিয়ে যাবে।’

এমভি আব্দুল্লাহর ক্যাপ্টেন বলেন, ‘সকলের চেষ্টায় আমরা দ্রুত সময়ে মুক্ত হয়েছি। মালিক প্রতিষ্ঠান অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। দ্রুত সময়ে আমাদের উদ্ধারে কাজ করেছেন।’ 

আরও পড়ুন: