বেনজীরের সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সম্পদের নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এরই মধ্যে গোপালগঞ্জ, সাভার, মাদারীপুর ও ঢাকার সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বেনজীরকে ২৩ জুন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ২৪ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) হাজির হতে বলা হয়েছে। 

গত ৩১ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে আসে। এরপর ২২ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুদক। ওই দিনই হাইকোর্ট নির্দেশ দেন, দুই মাসের মধ্যে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হবে। 

গেল মে মাসের শেষে বেনজীরের সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেন আদালত। সাভার, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরের সম্পদ থাকবে স্থানীয় ইউএনওদের নিয়ন্ত্রণে। আর গুলশানের ৪টি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ নেবে দুদকের প্রধান কার্যালয়। কক্সবাজারের সম্পদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে জেলা প্রশাসকের হাতে। সেই অনুযায়ী গোপালগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

দুদকের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গার সম্পত্তি বিভিন্ন জনকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের জায়গার জন্য জেলা প্রশাসক, সাভারের জায়গার জন্য সাভারের ইউএনওকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, অনুসন্ধানের বিষয়ে জবাব দিতে বেনজীরকে ২৩ জুন, তাঁর স্ত্রী জিশান মির্জা এবং ৩ মেয়েকে ২৪ জুন দুদকে হাজির হতে হবে। দুদক কমিশনার জানান, সময় দেওয়ার পরও যদি তাঁরা না যান, তাহলে ধরে নেওয়া হবে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই।

দুদক কমিশনার জহুরুল হক বলেন, ‘আইন যা আছে তাই হবে। সে যদি সময় চায়, সময়ের ব্যবস্থা আছে। আর সময় যদি না চায় তাহলে ধরে নিতে হবে তার কোনো বক্তব্য নেই। সে আসতে যে বাধ্য তাও কিন্তু না, সে যে বক্তব্য দিতে বাধ্য তাও না। কিন্তু সে যদি বক্তব্য না দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তার কোনো বক্তব্য নেই।’

বেনজীরের ৬ জুন এবং তার পরিবারের সদস্যদের ৯ জুন দুদকে তলব করা হলেও, তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে ৫টি চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।