দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ন্যায়পাল নিয়োগ চান আইনজ্ঞরা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন, আইনের পরিবর্তনসহ নানা পদক্ষেপেও, সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি থামানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় ন্যায়পাল নিয়োগ জরুরি বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এটি বাস্তবায়ন হলে, তথ্য পাওয়ার সাথে সাথেই লিখিত অভিযোগ দায়েরের আগেই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করা যাবে। এর পাশাপাশি, সরকারি চাকরির বিধিমালা কঠোর করার পরামর্শও অনেকের।

মাস দুয়েক ধরে সাবেক পুলিশ মহাপরির্দক (আইজিপি) বেনজীরের সম্পদ নিয়ে তোলপাড় দেশজুড়ে। এর পর, আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কোরবানির ঈদের আগে, এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের অস্বাভাবিক সম্পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী, প্রতি ৫ বছরে সম্পদের তথ্য জমা দিতে হয় কর্মকর্তাদের। তবে, আয়কর রিটার্নে তথ্য দেয়া হয়েছে বলে, বেশিরভাগই দায়িত্ব এড়িয়ে যান। এখানেই বড় গলদ দেখছেন আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাইদ আহমেদ রাজা বলেন, ‘আমার তো ইনকাম ট্যাক্সে সবকিছু দেওয়াই আছে, ইট রিয়েলি ডাস নট মেক এনি ডিফারেন্স। আমি দুর্নীতি করি, ইয়াবা ব্যবসা করি। আমি সেটার টাকা দিয়ে একটা ২৪ তলা বিল্ডিং বানাই। সব ট্যাক্স আমি ডাবল ডাবল দিয়ে রাখি। একটা ফ্লোরের জন্য আমি তিনটা হেডে ট্যাক্স দিই। বাট ডাস ইট মিন যে আমার সোর্সটা ইলিগ্যাল?’ 

নিয়মিত সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিধান কার্যকর করা কিংবা আইন সংশোধন করে নতুন পদ্ধতির পরামর্শও দিয়েছেন আইনজীবীরা। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘যখন আপনি পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) যাচ্ছেন, তখন আপনি তো একটা হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট নিয়ে যাচ্ছেন। ওই হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট নেওয়ার আগ মুহুর্তে যদি সরকারের ভিজিলেন্স টিম দেখে যে কত টাকার প্রোপার্টি আছে। সন্দেহজনক যদি মনে হয়, তাহলেই তো বোঝা যাচ্ছে উনি সৎভাবে না অসৎভাবে যাচ্ছেন। যদি মনে করে অসৎভাবে নিচ্ছে তাহলে পিআরএল হিসেবে যে টাকাটা পাবে সেটা সে আটকে দিতে পারবে।’   

কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ঠেকাতে এতদিনেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ অনেক বিশ্লেষক। এমন বাস্তবতায়, ন্যায়পাল নিয়োগের তাগিদ তাদের।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘তার (ন্যায়পাল) এখতিয়ারের মধ্যেই রয়ে গেছে যে কোনো সরকারের প্রতিষ্ঠান যদি অনৈতিক কাজ করে, বেআইনি কাজ করে, আইনের লঙ্ঘন করে তাহলে কিন্তু সেটা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। এবং সেটা বিবেচনায় নিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করতে পারেন। দুদক তখনই কাজ করে যখন তার কাছে কোনো একটা তথ্য বা অভিযোগ যায়। ন্যায়পালের কিন্তু ক্ষমতা আরও অনেক বিস্তৃত ও বেশি। তাকে কিন্তু অপেক্ষা করতে হবে না।’ 

১৯৯৮ সালে ন্যায়পাল নিয়োগে উদ্যোগ নিয়েছিলো তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।