কবি হেলাল হাফিজ আর নেই

দ্রোহ ও প্রেমের কবি হেলাল হাফিজের মৃত্যু হয়েছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

কবির ছোট ভাই নেহাল হাফিজ এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, হেলাল হাফিজ শাহবাগের সুপার হোম হোস্টেলে থাকতেন। সেখানে ওয়াশরুমের দরজা খুলে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। বেলা সোয়া ২টার দিকে ওয়াশরুমের দরজা খোলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ ইনডিপেনডেন্ট অনলাইনকে বলেন, ‘প্রয়াত হেলাল হাফিজের জানাজা আগামীকাল বাদ জোহর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে। আজ রাতে তাঁর মরদেহ রাখা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমাগারে।’

কবি হেলাল হাফিজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। উত্তাল ষাটের দশক হয়ে ওঠে তাঁর কবিতার উপকরণ। নেত্রকোণায় জন্ম নেওয়া এই কবির গণঅভ্যুত্থানের সময় রচিত ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি কবিখ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছিল মিছিলের স্লোগান। ‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ কালজয়ী কবিতার এ লাইন দুটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। পরে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলেন সময়ও কবিতাটি মানুষের মধ্যে তুমুল সাড়া ফেলে।

হেলাল হাফিজের প্রথম কবিতাগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। এটি তাঁকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এরপর বইটির ৩৩টির বেশি সংস্করণ বেরিয়েছে। দীর্ঘসময় নিজেকে আড়ালে রাখা হেলাল হাফিজের দ্বিতীয় কবিতার বই ‘কবিতা ৭১’ প্রকাশ হয় আড়াই দশক পর,  ২০১২ সালে। তাঁর তৃতীয় ও শেষ বই ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’ প্রকাশিত হয়েছে ২০১৯ সালে।