স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আজ সোমবার বিকেলে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে গণপদযাত্রা কর্মসূচি থেকে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীরা বলেছেন, ক্ষমা চেয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগ না করলে আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে মশাল মিছিল হবে।

আজ সোমবার দুপুরে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে গণপদযাত্রার আয়োজন করা হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষে এ আল্টিমেটাম দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদ্রিতা রায়।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগসহ সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবিলম্বে ধর্ষণ ও নিপীড়নের সব ঘটনার বিচারের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে টিএসসি, দোয়েল চত্বর হয়ে পদযাত্রা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে যাত্রা করা হয়। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের শিক্ষা ভবনের সামনে বাধা দেয়।

শিক্ষার্থী আদ্রিতা রায় বলেন, ‘আমরা এখানে যারা আছি, আজকে আমরা প্রত্যেকে গণঅভ্যুত্থানের অংশীদার, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী। এই যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বসে আছেন, উনি আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বসে আছেন। কিন্তু তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্ম থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’ পরে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

এর আগে পুলিশের বাধার শিকার হয়ে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে শিক্ষা ভবনের সামনে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু কেউ আসেননি। পরে আগামীকালের কর্মসূচি ঘোষণা করে তাঁরা মিছিল নিয়ে ফিরে আসেন।

আন্দোলনকারীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে আছে জননিরাপত্তাদানে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ; সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নারী নিপীড়ন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; অবিলম্বে পাহাড়, সমতলসহ সারা দেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও নিপীড়নের সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা; সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন প্রতিরোধের আইনসমূহে প্রয়োজনীয় যৌক্তিক সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধন। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তন, অপরাধী বা ভুক্তভোগীর জেন্ডার নির্বিশেষে সব ধরনের পেনিট্রেশনকে ধর্ষণের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

গণপদযাত্রা শুরুর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে জানানো দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে–ধর্ষণের মামলা নেওয়া নিয়ে যে থানায় হওয়া নানা জটিলতা দূরীকরণ, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীকে সব ধরনের সুরক্ষা দিতে ২০১১ সালে পর্যালোচিত সাক্ষী সুরক্ষা আইন পুনরায় পর্যালোচনা ও প্রয়োগ; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, স্লাটশেমিং ও বরখাস্তের ঘটনা পূর্ণ তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা; বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমন্বয়ে এবং আবশ্যিক নারী সদস্য সম্বলিত স্বাধীন যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করা এবং অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে, দোষীকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা ওই সেলকে দেওয়ার দাবি।