ট্রান্সশিপমেন্টের বাতিলের প্রভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় পড়বে না: মালদ্বীপের হাইকমিশনার

ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের কারণে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। হাইকমিশনার জানান, এর ফলে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হবে না। 

এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভবিষ্যতে ট্রান্সশিপমেন্টকে দর কষাকষির হাতিয়ার করতে পারে দিল্লি। এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ তাদের।

ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ জানান, ট্রান্সশিপমেন্ট বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। মালদ্বীপের ট্রান্সশিপমেন্ট শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হওয়ায় এর প্রভাব তাদের ওপর পড়বে না। এ ঘটনায়, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হবে না বলেও আশা করেন তিনি।

শিউনীন রশীদ বলেন, ‘এটি দু'দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের পণ্য মালদ্বীপে রপ্তানি হয় শ্রীলঙ্কা হয়ে। সুতরাং এর প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে না। তাছাড়া আমি মনে করি, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক আছে। এ সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিকভাবেও তেমন প্রভাব ফেলবে না।’ 

এ সময় হাইকমিশনার আরও জানান, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সমুদ্র সংযোগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সে দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। 

আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশিদের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান শিউনীন রশীদ। 

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন কমার সম্ভাবনা দেখছিলেন বিশ্লেষকেরা। মঙ্গলবার বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য তৃতীয় দেশে পাঠানোর জন্য ভারত তাদের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্তকে নেতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তারা। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগে নতুন বাধা সৃষ্টি করলো দিল্লি। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন, ‘ট্রান্সশিপমেন্ট ওয়ান অব দ্যা মেনি ইস্যুস দ্যাট মাইট বি ডিফিকাল্ট ফর বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া, সামনের দিনগুলোতে। আমার মনে হয় এটাকে তারা ভবিষ্যতে একটি অস্ত্র হিসেবে বা বারগেইনিং টুল হিসেবে ব্যবহার করবে। এ কারণে আমি মনে করছি, বাংলাদেশকে এখন থেকে একটু গুরুত্ব দিতে হবে যাতে মেরিটাইম ব্লকেডের সম্মুখীন আমরা না হই।’