মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্তের পর গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার পর ব্যাপক হারে গুজব ছড়ানোর প্রমাণ পেয়েছেন ফ্যাক্ট চেকাররা। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে, সবচেয়ে বেশি ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয় মৃতের সংখ্যা নিয়ে। পুরনো ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়, সেগুলো স্কুলটির শিক্ষার্থীদের মরদেহের। আইনজীবীরা বলছেন, অপপ্রচার বন্ধে দ্রুত কনটেন্ট সরানোর পাশাপাশি নিতে হবে আইনি ব্যবস্থা।

মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের পর ছড়িয়ে পড়ে নানা গুজব। এর প্রভাব কতটা; তার বড় উদাহরণ খোদ শিক্ষার্থীরা। ফ্যাক্ট চেকাররা বলছেন, সবচেয়ে বেশি মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয় মৃতের সংখ্যা নিয়ে। জামালপুরে চুরি যাওয়া কঙ্কাল ফের কবর দেওয়ার ভিডিও, মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীর বলে অপপ্রচার চলে। এ ছাড়া ছড়ানো হয় বিমান বিধ্বস্তের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিডিও আর ছবি।

শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত কোরতে, দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে নানা অপতথ্য ছড়ানো হয়। মঙ্গলবার মাইলস্টোন ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টাকে উদ্ধারের সময় পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত হয় বলেও প্রচার করা হয়।

এএফপি বাংলাদেশ–এর ফ্যাক্ট চেকার এডিটর ইয়ামিন সাজিদ বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে লাশের সংখ্যা নিয়ে। চুরি হয়ে যাওয়া কঙ্কলাকে দেখানো হয়েছে, দগ্ধ শিক্ষার্থীদের দেহাবশেষ লুকিয়ে কবর দেওয়া হচ্ছে। এটা পুরোটাই অপতথ্য।’

আইনজীবীরা জানান, ডিজিটাল গুজব রোধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, ভুয়া কন্টেন্ট সরাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, ‘শাস্তি দৃশ্যমান হচ্ছে না বলেই এটা হচ্ছে। এটা করতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘আইন সবসময় সচল। সরকারের এগুলো বন্ধ করার উপায় আছে, জনগণেরও উপায় আছে আইনের আশ্রয় নিয়ে এসব গুজব বন্ধ করার।’

এদিকে নাইজেরিয়া ভিত্তিক জুয়াড়িদের একটি পেইজে স্কুল ধসে পড়া নিয়ে করা পোস্টকে বাংলাদেশ সংক্রান্ত বলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ ওই পোস্টে বাংলাদেশ শব্দটিও উল্লেখ ছিল না।

গত ২১ জুলাই মাইলস্টোনের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয় বিমান বাহিনীর একটি বিমান। এতে এখন পর্যন্ত ৩১ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।