ঢাকা সেনানিবাসের এমইএস ভবনকে অস্থায়ী কারাগার ঘোষণা করেছে সরকার। গুমে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের পর সেখানে রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারাগারের সার্বিক দায়িত্বে থাকবে কারা কর্তৃপক্ষ। এদিকে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আবারও জানিয়েছেন, পুলিশ এই সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে তুলতে হবে।
‘আয়নাঘরে’ বছরের পর বছর গুম করে নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ডিজিএফআই ও র্যাবের ৩০ কর্মকর্তার নামে পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এদের মধ্যে ২৩ জনই সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা, যার মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ জন ডিরেক্টর জেনারেলও (ডিজিও) রয়েছেন।
গত শনিবার সেনাসদর জানিয়েছিল, চাকরিতে থাকা পরোয়ানাভুক্ত ১৫ জন তাদের হেফাজতে রয়েছেন।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি ও জেল আইন অনুযায়ী ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোডের কাছে এমইএস-এর ৫৪ নম্বর ভবনটি অস্থায়ী কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর পর এই কারাগারে রাখা হতে পারে।
এদিকে প্রজ্ঞাপনের পর চিফ প্রসিকিউটর জানান, কারাগার যেখানেই হোক না কেন, গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের এই ক্ষমতা আছে—কোন জায়গাটিকে তারা জেল ঘোষণা করবেন, প্রিজন অথরিটির আওতায় নিয়ে আসবেন, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত। আর্মির হাতে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই। এখানে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। এই আদেশ পালনের বিষয়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তারা কিন্তু গ্রেপ্তার করবেন না। যদি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে, তখন থেকে তার ওপর আইন প্রযোজ্য হবে যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে আনতে হবে। কিন্তু আপনি যদি গ্রেপ্তার না দেখান তাহলে তার ক্ষেত্রে ওই ২৪ ঘণ্টার আইন প্রযোজ্য নয়।’
সরকারের এই আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, আইন সবার জন্য সমান।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনো মানুষকেই গ্রেপ্তার করা যাবে। আইনের দৃষ্টিতে পুলিশ, আর্মি, সিভিলিয়ান বলে কিছু নেই। আইনে হচ্ছে একজন ব্যক্তি, নাগরিক। একটা মানুষ। আইন সব সময়ই ব্যক্তিকে বিবেচনা করবে। এখানে কোনো উঁচু মর্যাদা, নিচু মর্যাদা বা কাউকে ‘ইল ট্রিটমেন্ট’ দেওয়ার সুযোগ নেই।’
সেনানিবাসে অস্থায়ী কারাগারের দায়িত্বে থাকবে কারা কর্তৃপক্ষ। একজন ডেপুটি জেলারসহ সার্বক্ষণিকভাবে সেখানে অন্যান্য কর্মকর্তারা অবস্থান করবেন।