খালেদা জিয়ার মরদেহ যাচ্ছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে, সঙ্গে তারেক রহমান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশান থেকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তাঁর মরদেহবাহী গাড়িটি গুলশানে ছেলে তারেক রহমানের বাসা থেকে রওনা হয়েছে। তারেক রহমান গাড়িবহরে রয়েছেন। 

বুধবার বেলা ১১টার পর ছেলে তারেক রহমানের গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে খালেদা জিয়ার মরেদহবাহী গাড়ি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে রওনা হয়। সেখানে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হবে। এরই মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এরআগে সকাল পৌনে ৯টার পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়ি কড়া নিরাপত্তায় গুলশানে নেওয়া হয়। তাঁর দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়ার কথা ছিল এই গাড়ি। তবে গুলশানে তাঁর ছেলের বাসায় নেওয়া হয় মরদেহ, গাড়ি পৌঁছায় ৯টা ১৭ মিনিটে। তারেক রহমানের বাসার পাশেই খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজা।

গুলশানে যেখানে খালেদা জিয়ার মরদেহ নেওয়া হয়, সেই বাড়িতে ছিলেন তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, হাফিজ উদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপিত মঞ্চে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কফিন রাখা হবে। সেখানেই ১৯৮১ সালের ২ জুন তাঁর স্বামী, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা হয়েছিল। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা হবে বাদ জোহর বেলা ২টার দিকে। জানাজার পর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে তাঁকে। 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন রাখা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা অবস্থান করতে পারবেন।

বাংলাদেশের জাতীয় নেতাকে সর্বস্তরের জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে সম্মান জানাতে পারেন এবং তাঁর জানাজায় অংশ নিতে পারেন সেজন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সকল দপ্তর। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের চারপাশের সড়কগুলোতেও যেন জনসাধারণ অবস্থান করতে পারেন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, জানাজার পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমহিত করা হবে। এসময় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত রাজনীতিবিদগণ উপস্থিত থাকবেন।

দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্নের জন্য সেখানে নির্ধারিত ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাফনকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হবে।

৩৭ দিন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।