বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ত্যাগ এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে গভীর বিষণ্নতা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এই অনুভূতির কথা জানান।
শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘গতকাল থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে আমি গভীর বিষণ্ন বোধ করছি। বহু বছর ধরে তিনি আমার অন্যতম রাজনৈতিক আদর্শ। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি খুব কাছ থেকে তাঁর কষ্ট দেখেছি—দলীয় কর্মীদের তিনি যেভাবে নিজের সন্তান বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মতো আগলে রেখেছেন, তা অতুলনীয়। শহীদ বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর থেকে আমার মনে হয়েছে, তিনি যেন ভীষণভাবে একা হয়ে পড়েছেন।’
প্রেস সচিব তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘এই দুই নেতা মিলে আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সম্মানিত এক অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছিলেন। দুজনই ছিলেন সহমর্মিতা ও নীরব সহনশীলতার প্রতীক। তাঁরা খুব কমই মেজাজ হারাতেন বা অহংকার দেখাতেন। কঠিন সময়ে তাঁরা অত্যন্ত সংযম ও যত্নের সঙ্গে তাঁদের মানুষদের পথ দেখিয়েছেন।’
মির্জা ফখরুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হয়েছে। তিনি আর সেই আগের মতো সারা দেশ চষে বেড়ানো মহাসচিব নন। বেগম খালেদা জিয়া যখন তাঁকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেন, তখন তিনি ছিলেন বিএনপির একজন মধ্যম সারির নেতা, যিনি মূলত তাঁর মধ্য-বাম রাজনৈতিক চিন্তার জন্য পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সংকটের মুহূর্তে তিনিই নিজেকে সবচেয়ে দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে প্রমাণ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থেকে তিনি দলকে স্থির, সংহত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে দেননি।’
পোস্টের শেষে শফিকুল আলম একটি যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিয়ে লেখেন, ‘কিন্তু জুলাই মাস এসে পড়েছিল অনেক দেরিতে। খালেদা জিয়া তখন গুরুতর অসুস্থ, আর মির্জা ফখরুল নিজেও ইতোমধ্যে অনেকটা শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। এটাই ছিল একটি যুগের নীরব সমাপ্তি।’