এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহার ব্যবসায়ীদের

এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা থেকে সরে এসেছে ব্যবসায়ী সমিতি। কমিশন বাড়ানো ও মোবাইল কোর্টের অভিযান না চালানোর আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করে তারা। বিকেলে বিইআরসি'র সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। এদিকে দিনব্যাপী এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের দাবি তুলে ধরে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি। ২৪ ঘণ্টার মধ‍্যে দাবি মানা না হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় তারা। এরপর সন্ধ‍্যায় বন্ধ হয়ে যায় এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোক্তারা সিলিন্ডার কিনতে ভিড় করলেও, দোকান বন্ধ থাকে। ফলে সিলিন্ডার না পেয়েই হতাশ হয়ে ফিরে যান ক্রেতারা। যদিও খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলার থেকে পাওয়া যাচ্ছে না সিলিন্ডার।

খুচরা বিক্রেতাদের একজন জানান, ডিলারের কাছে ফোন দিলেই বলে গ্যাস নাই। আবার কেউ বলে রেট (দাম) বেশি। এত রেট বেশি দিয়ে তো (উচ্চ মূল্যে) গ্যাস আনা যাবে না।

আরেক খুচরা বিক্রেতা বলেন, মাল (সিলিন্ডার গ্যাস) নিয়ে যেতে পারছি না। এজন্য এখানে দাঁড়িয়ে আছি। দোকান খুলবে, পরে মাল নিয়ে যাব। কাস্টমার তো খালি ফোন দিয়েই যাচ্ছে। 

এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন- বিইআরসি। চেয়ারম্যান থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেয়ে ধর্মঘট তুলে নেন ব্যবসায়ীরা। জানান সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি সম্ভব নয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি মূলত তিনটি। প্রথমত, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁদেরকে কমিশন প্রদানের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সে কমিশন শতভাগ তাঁদেরকে দিতে হবে। পাশাপাশি তাঁরা চাইছেন নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাওয়ার প্রতিশ্রুতি।

সরকারের আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান। তিনি বলেন, 'আমাদের কর্মসূচি ছিল অনির্দিষ্টকালের জন্য। তবে এখন থেকে আমরা এই কর্মসূচি স্থগিত করছি।' 

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও জানান, জাহাজের ঘাটতির জন্য যদি সরবরাহ লাইনে কোনো সমস্যা থাকে, আমরা এ বিষয়ে লোয়াব (এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর সাথে কথা বলেছি। লোয়াবকে অনুরোধ করেছি দ্রুত জানুয়ারি মাসে আমদানি বাড়ানোর জন্য। ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরু হবে। এ সঙ্কট আশা করছি, এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে কেটে যাবে।'  

এদিকে, এলপিজি'র চলমান সংকট নিরসনে পাঁচটি উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বৃহস্পতিবার সমস্যা সমাধানে গ্যাসের আমদানি শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছে জ্বালানি বিভাগ। এর ফলে এলপিজি'র আমদানি বাড়বে এবং বাজারে সরবরাহ সংকট কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।