জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার ডাক দিয়েছে দেশের পাঁচটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ।
‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’-এর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চাকসু) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জকসু) সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায় ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সিলেটে প্রথম বিভাগীয় গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’-এর প্রতিনিধিরা মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ মানে নিরাপদ বাংলাদেশ। ছাত্র প্রতিনিধিদের মতে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ যে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছে, গণভোটই তার সাংবিধানিক স্বীকৃতির একমাত্র পথ।
‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করার গুরুত্ব প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ মানে কেবল একটি ভোট নয়; ‘হ্যাঁ’ মানে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন সমাজ এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান। এই গণভোটের মাধ্যমেই ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত সংগ্রাম একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সিলেটের বন্দরবাজার সংলগ্ন কোর্ট পয়েন্টে এই গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ছাত্র প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এছাড়া এই গণজমায়েতে আরও উপস্থিত থাকবেন মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, প্রেস ক্লাবের সভাপতি, শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি, ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি, শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষক-ডাক্তারসহ বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির প্রতিনিধিবৃন্দ।
ছাত্র সংসদগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সকল প্রকার বিভ্রান্তি ও ভয়ের রাজনীতির অবসান ঘটানোই এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। সিলেট থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিভাগীয় শহরে পালন করা হবে।
দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল সাধারণ মানুষকে এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচি সফল করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’।