ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায়, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, সংঘাতের তেমন আশঙ্কা নেই। বরং কেন্দ্রগুলোতে উৎসবের আমেজ থাকবে বলে মনে করছে ইসি।
রাষ্ট্র সংস্কার আর রাজনীতির নতুন মেরুকরণের এবারের নির্বাচনে লড়ছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৮৩ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি রাজনৈতিক দল।
শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই বৃহস্পতিবার নির্বাচন হচ্ছে ২৯৯টি আসনে। এসব আসনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। অন্যদিকে, নারী ভোটার আছেন ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
মোট ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে ভোট হবে। যার মধ্যে অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ।
এবার নির্বাচনী দায়িত্বে আছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। নিরাপত্তায় থাকছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য।
শুরু থেকেই গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের কথা বলে আসছে কমিশন। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও একইদিনে যোগ হয়েছে গণভোট। পোস্টাল ব্যালটের চ্যালেঞ্জও নিতে হয়েছে এবার। নির্বাচন কমিশন (ইসি) মনে করছে, ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে তারা। ভোটের দিনের পরিস্থিতি ভালো থাকবে বলে আশা কমিশনারদের।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, '১২ (ফেব্রুয়ারি) তারিখে আমরা আশা করছি একটা ঈদের মতো পরিবেশে নির্বাচনটা হবে এবং কোনো সমস্যা হবে না। এটা নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাস। বিশ্বাসের কারণ হিসেবে যদি জানতে চান, এখন পর্যন্ত প্রতিটি রাজনৈতিক দল, প্রতিটি প্রার্থী নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে আসছে।'
ফলাফল দিতে খুব বেশি দেরি হওয়ার শঙ্কা নাকচ করা হয়েছে। কমিশনারদের দাবি, সরকারের প্রভাব নেই তাদের কাজে।
সার্বিকভাবে সব ধরনের আশঙ্কা পেছনে ফেলে দোড়গোড়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইসি বলছে, বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই পার হয়েছে নির্বাচনপূর্ব সময়। ভোটারের উপস্থিতিতে ভোটের দিনটি হবে উৎসবমুখর ও সহিংসতামুক্ত। নির্বাচন কমিশনের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় এখন জাতি।