বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'নট আউট' তকমাটিকে নিজের করে নিয়েছেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ৫টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই জয়লাভ করেছেন তিনি। গত ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হয়েছেন গণতন্ত্রের 'আপোষহীন' খ্যাত এই নেত্রী।
বেঁচে থাকলে এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতেন তিনি। তাঁর হয়ে মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়া হয়েছিল এই তিনটি আসনে। যদিও মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরের দিনই মৃত্যু হয় খালেদা জিয়ার।
তবে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসন তিনটিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরাই। চলুন কারা বিজয়ী হলেন এই তিন আসনে:
বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর)
বগুড়া-৭ আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মোর্শেদ মিলটন। ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গোলাম রব্বানী ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ ভোট পেয়েছেন।
ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম)
ফেনী-১ আসনেও বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এ আসনে রফিকুল আলম মজনু পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট।
এবারের নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫২ জন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের এস এম কামাল উদ্দিন, যিনি পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট। আসনটিতে ১২১টি কেন্দ্রের সবকটিতেই আধিপত্য দেখিয়েছেন মজনু।
দিনাজপুর-৩ (সদর)
দিনাজপুর জেলার কোনো আসনে ইতোপূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি খালেদা জিয়া। তবে এবার তাঁর হয়ে মনোনয়ন তোলা হয়েছিল দিনাজপুর-৩ আসন থেকে। তাঁর প্রয়াণে এ আসনে বিএনপি'র হয়ে নির্বাচন করেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ২০৭টি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. মইনুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬১৮ ভোট। অর্থাৎ, ১৪ হাজার ৫৮৯ ভোটের ব্যবধানে আসনটিকে নিজের করে নিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।