দুদকের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক ছায়া, কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে না পারায় দুর্নীতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমন মন্তব্য করে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সব সময়ই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে দুদক। আর এই সুযোগে দুর্নীতিবাজরা হচ্ছে আরও শক্তিশালী। চলে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৫ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হলে, সেই দুদকই মামলাটি বাতিলের আবেদন করে। আদালতও মামলাটি বাতিল করে দেয়।

দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল স্ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে দুই বছর কারাগারে ছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মূলত ওই সময়ই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া ১৬ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুদক। কিন্তু নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে কমিশন। এভাবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় দুদক। অবশ্য তা মানজে নারাজ দুদক মহাপরিচালক।

দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাদের যাচাই-বাছাই কমিটি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে। সব অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিটির সুপারিশক্রমে অনুসন্ধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুর্নীতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না দুদক। স্বাধীন সংস্থাটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিচালিত হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যত বড় দুর্নীতি তত বড় রাজনৈতিক প্রভাব। গ্র্যান্ড করাপশন নিয়ন্ত্রণে যে সৎসাহস দরকার, যে ধরনের নেতৃত্ব দরকার সে ধরনের নেতৃত্ব দুদক থেকে কখনও পাওয়া যায়নি। অনেক সময় রাজনৈতিক আনুগত্য প্রমাণ করতে গিয়ে দুদকও আগ বাড়িয়ে প্রশ্রয় দেয় দুর্নীতিবাজদের।’