বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখ, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা। মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে শুরু হওয়া বঙ্গাব্দ আজ শুধু বর্ষপঞ্জি নয়, বরং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জীবনধারার প্রতীক। ইউনেস্কো স্বীকৃত শোভাযাত্রা, নতুন প্রজন্মের ভিন্ন ধারা এবং ঐতিহ্য-আধুনিকতার মেলবন্ধনে বাংলা নববর্ষ এখন এক বহুমাত্রিক উৎসব। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই উৎসবের রং ছড়িয়ে দেয় এই দিনটি।
মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে কৃষি খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ফসলি সন হিসেবে প্রথমে এই পঞ্জিকা প্রবর্তন করেন। পরে যা বঙ্গাব্দ বা বাংলাবর্ষ নামে পরিচিত হয়।
পয়লা বৈশাখে ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। যার প্রথম আয়োজন ১৯৮৯ সালে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে। ১৯৯০ সাল থেকে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। ড. ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার ফিরে যায় প্রথম নাম আনন্দ শোভাযাত্রায়। আর এবার পালিত হচ্ছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে।
বাংলা একাডেমি উপ-পরিচালক ড. সাইমন জাকারিয়া বলেন, ‘বারো মাসের বারো রকমের যে বৈচিত্র্য এবং এর মধ্য দিয়ে মানুষের যে মানসিক পরিবর্তন হয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যে পরিবর্তন ঘটে বা ভূ-প্রকৃতির যে পরিবর্তনগুলো ঘটে সেগুলো কিন্তু লিপিবদ্ধ করা আছে। বাংলাদেশে বহু জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ বৈশাখ উদযাপন করে। বৈশাখ কখনো হারাবে না।’
পান্তা-ইলিশ বেশ ঘটা করেই দিনের অন্যতম জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হলেও এটি নতুন রেওয়াজ। আলোচনা-সমালোচনার মুখে সম্প্রতি এই রেওয়াজ থেকে বের হয়ে আসে নতুন প্রজন্ম।
দিবসটিকে ঘিরে পুরোনো বছরের হিসাব বন্ধ করে নতুন বছরের নতুন খাতা খোলার রেওয়াজ, যা মূলত ব্যবসায়ীদের মাঝেই প্রচলিত।
গ্রাম কি শহর বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলার প্রচলন বহু পুরোনো। মেলায় নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাস ও বিভিন্ন মৃৎশিল্প ও লোকজ খেলনা ছাড়াও মাটির পুতুল, কুটির শিল্প, নকশি কাঁথা ও মুড়ি-মুরকি, সন্দেশসহ নানা রকম পিঠাপুলির সমাহার থাকে। এ ছাড়াও নৌকাবাইচ, বাউল গানের পাশাপাশি দিনজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার রেওয়াজও প্রচলিত।
পয়লা বৈশাখকে শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সামাজিক আয়োজন মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।