থেমে নেই হজযাত্রীদের তামাকজাত পণ্য বহন, কাজে আসছে না নিষেধাজ্ঞাও

নানা সতর্কতা ও সৌদি আইনে নিষিদ্ধ থাকার পরও থেমে নেই হজযাত্রীদের মাধ্যমে লাগেজে তামাকজাতীয় পণ্য বহন। এ বছর প্রথম দিনে কয়েকজন হজযাত্রীর লাগেজে পাওয়া গেছে জর্দা, সিগারেট ও পান-সুপারি। ইমিগ্রেশন থেকে এসব নেশাদ্রব্য জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। হজ অফিস জানিয়েছে, হজযাত্রীরা তামাক পণ্য বহন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৫ সালে যাত্রীদের মাধ্যমে জর্দার কার্টন, বিড়ির প্যাকেট ও গুলের কৌটাসহ তামাক ও নেশাজাতীয় নানা দ্রব্য সৌদি আরবে পাঠায় কয়েকটি হজ এজেন্সি। এর মধ্যে জেদ্দা বিমানবন্দরে জব্দ করা হয় ১১ লাগেজ তামাক পণ্য।

এতে সুনাম ক্ষুণ্ন হয় বাংলাদেশের। তামাক ও নেশাজাতীয় পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সৌদি আরব। এর পরই বাংলাদেশি হজযাত্রীদের তামাক পণ্য না নিতে সতর্ক করা হয়।

এ বছরও অনেক হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার সময় বহন করছেন জর্দা, পান, সিগারেটসহ নানা তামাকজাতীয় দ্রব্য। যা ধরা পড়ছে ইমিগ্রেশনের তল্লাশিতে। কেবল এক যাত্রীর লাগেজেই পাওয়া গেছে ১৪৪ প্যাকেট জর্দ্দা এবং ২০ প্যাকেট সিগারেট।

হজযাত্রীরা বলছেন, অন্য কোনো উদ্দেশ্য নয়, নিজেদের খাওয়ার জন্যই তারা তামাক পরিবহন করছেন। তাঁরা অনেকেই তামাকজাত দ্রব্য পরিবহনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানেন না। 

তামাক পণ্য যাতে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যেতে না পারে সে জন্য প্রথবারের মতো হজ ক্যাম্পে নিয়োজিত করা হয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মী।
 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘হজ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জর্দা-পান-সিগারেট কোনো হজযাত্রী পরিবহন করতে পারবেন না।’

এক যাত্রীর লাগেজেই পাওয়া গেছে ১৪৪ প্যাকেট জর্দ্দা এবং ২০ প্যাকেট সিগারেট। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনহজ পরিচালক বলছেন, এরই মধ্যে তামাকপণ্য নিয়ন্ত্রণে যাত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে। এর পরও কেউ বহন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
হজ অফিসের পরিচালক লোকমান হোসেন বলেন, ‘এ দেশের আইনের কোনো ব্যত্যয় হলে আইন অনুযায়ী সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যেহেতু এর কারণে আমরা বিব্রত হচ্ছি, সেহেতু হজযাত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় যে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব।’

তামাক পণ্যের পাশাপাশি পাটের দড়ি, র‍্যাপিং পেপার এবং স্কচটেপ নিতে পারবেন না হজযাত্রীরা।