ডাকারে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মঙ্গলবার সেনেগালের ডাকার শহরে ‘ডাকার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ফোরাম (আফ্রিকা)’–এর সাইডলাইনে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে এসব বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আফ্রিকান নেতাদের সঙ্গে তার আলোচনা নতুন অংশীদারত্বের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, কূটনৈতিক সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে পারস্পরিক অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে।

গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিসান্দা কুয়াতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় নেতা কৃষিখাতে, বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক কৃষিতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি ব্যবসা-টু-ব্যবসা বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। খনিজ সম্পদ, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র এবং ওষুধ শিল্পকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজিয়ে সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গাম্বিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাও অন্তর্ভুক্ত। গাম্বিয়ার মন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষ ওআইসির মতো বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা জোরদার এবং বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলায়ে দিয়পের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়, বিশেষ করে কৃষি, ওষুধ, তৈরি পোশাক, পাট, তুলা এবং চামড়া খাতে। মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটিতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের আওতায় সহযোগিতা জোরদার এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন।

নাইজারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সহযোগিতা ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী বাকারি ইয়াও সাঙ্গারের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়িক সংযোগ জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধান করা হয়।

অ্যাঙ্গোলার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসমেরালদা ব্রাভো কন্ডে দা সিলভা মেন্ডোনসার সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ, তৈরি পোশাক, পাট এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের পরামর্শ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং নারী ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়াও আমেরিকার ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট রিচার্ড মাইকেলস প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে গণতন্ত্র উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং মানবাধিকার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি দৃঢ় অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

আফ্রিকান নেতাদের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বৈঠকগুলোতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও আফ্রিকান দেশগুলো বহুপাক্ষিক পরিসরে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করলেও নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক পরামর্শ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করবে এবং বিভিন্ন খাতে অংশীদারিত্বের পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচনে সহায়তা করবে।

মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং সেনেগালে মনোনীত রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা বৈঠকগুলোতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।