ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই; তবে সে জন্য সময়ের প্রয়োজন। সোমবাবর দুপুরে সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, চাইলেই এ প্রক্রিয়া শুরু করা যায় না, এ ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা রয়েছে। সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে তা এখনই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়।
সংবিধান সংশোধন, জুলাই সনদ, গণভোট ও গণমাধ্যমের ভূমিকাসহ নানা বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কথা বলেন ত্রয়োদশ সংসদের নীতিনির্ধারকরা।
চার হুইপসহ চিফ হুইপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার গঠনমূলক সমালোচনাকে সব সময় স্বাগত জানাবে। তবে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিরোধী দল সমাজকে অস্থিতিশীল করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করছে।
সরকারদলীয় হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বিরোধী দল যারা আমাদের প্রতিপক্ষ, তারা পয়সা দিয়ে ফেক আইডি খুলে একটি খবরকে মিথ্যার যতটুকু গভীরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, ততটুকু নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য বিশৃঙ্খলা তৈরি করা বা পরিস্থিতির পরিবর্তন করার চেষ্টা করা।’
গণভোট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এর কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। আর চাইলেই হুট করে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। কারণ, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সংসদ—সব কিছুর ভিত্তিই হলো এই সংবিধান। তিনি বলেন, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশই নবীন সংসদ সদস্য থাকায় সংশোধনে সময়ের প্রয়োজন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া কোনো পথ নেই। এটা আমাদের করতেই হবে। এই সনদ যদি বাস্তবায়ন করতে চাই—এখানে লেখাই আছে, নির্বাচনে যারা ম্যান্ডেট পাবে, তারাই এই কার্যক্রম করবে। কেন এখনই করতে চাই না? একটা মাত্র কারণে, আমাদের প্রায় ২০০ জন সদস্য নতুন। তাঁরা সংসদ দেখেননি, সংসদের কার্যক্রম নিয়েও কোনো ধারণা নেই।’
অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিরোধী দলের প্রতিবাদের মতো ঘটনা আর ঘটবে না বলেও আশা করেন সরকারি দলের চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘সংসদ অধিবেশনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ানোটা ঠিক হয়নি। আমরা যেহেতু একেবারে নতুন, নতুনদেরই ভুল হয়। অভিজ্ঞ হলেই এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর সংসদের কোনো বিকল্প নেই।