রবীন্দ্রনাথের কবিতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণ বাংলাদেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে: চিফ হুইপ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আমাদের প্রেরণার উৎস। তাঁর কবিতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে।’

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি, সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জাতীয় সংসদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

চিফ হুইপ রবীন্দ্রনাথের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে আমি ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ কঠিন লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছে। তারা কঠিন সত্যকে ভালোবেসেছিল বলেই দীর্ঘ সংগ্রামের পর একটি নতুন সকালের দেখা পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পঙক্তিগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে এবং কঠিন সত্যকে ধারণ করে বিপ্লব ঘটিয়েছে। যারা গত ১৭-১৯ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারাও এই সত্য ও কঠিনকে ভালোবেসে শক্তি সঞ্চয় করেছেন।’

মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক অগ্রসর চিন্তার মানুষ ছিলেন। তাঁর ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’ কবিতার আবেগ এখনও সমাজকে অনুপ্রাণিত করে। সমাজে যখনই স্থবিরতা বা অচলায়তন তৈরি হয়, তখনই নবীন প্রজন্ম সমাজকে জাগিয়ে তোলে।”

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধেও রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান রয়েছে। রবীন্দ্রসংগীত বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।’

বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘তরুণদের রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য পাঠ করে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের মতো বড় মাপের সাহিত্যিক চলে যাওয়ার পর আমরা তেমন নতুন সাহিত্যিক তৈরি করতে পারিনি। সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন, যেখানে নতুন সাহিত্যিক ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন অনেক অপসংস্কৃতি ও বিজাতীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করছি। আমাদের উচিত নিজস্ব সংস্কৃতি ও সত্তায় ফিরে আসা এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে মাদক, অপশক্তি ও স্বৈরাচার থাকবে না।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে চিফ হুইপকে শুভেচ্ছা স্মারক ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।