বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন। এছাড়া, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবে বাড়ছে নৃশংসতা। পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা বিশ্লেষণ করে এমন মন্তব্য করেছেন মানসিকে রোগ বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের অপরাধকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট বলছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা।
পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসা। তাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেছে প্রতিবেশি সোহেল রানা। এই হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নাকেও। শিশটির মরদেহ লুকিয়ে ফেলতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দুজনে।
মানিসক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার বলেন, ‘একজন অপরাধী ইনসিকিউর ফিলিং থেকে নানা ধরনের অপরাধ প্রবণ হয়ে উঠতে পারে। তার এই অপরাধের মধ্যে একটা গ্রাডিফিকেশন আছে, এই গ্রাডিফিকেশনের যে আনন্দ সেটার ভেতরেও সে ঢুকে যেতে পারে।’
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বিকৃত যৌনচারের স্বীকার হয়েছে শিশু রামিসা। এছাড়া, হত্যা ও মরদেহ লুকানোর চেষ্টাকে ব্যাখ্যা করছেন পরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে মানবিক ও সামাজিক সংকট বলছেন বিশ্লেষকেরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, ‘একজন ক্রিমিনাল ফাস্ট টাইম ক্রিমিনাল থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে সে এই অপরাধটা বার বার করতেছে, সে উফেন্ডার (অপরাধী) হচ্ছে, সে আস্তে আস্তে ফাস্ট টাইম উফেন্ডার থেকে হেভিচুয়াল উফেন্ডার হয়ে যাচ্ছে। এই হেভিচুয়াল উফেন্ডার পথে যাওয়ার আগে আমাদের থামিয়ে দিতে হবে।’
বিশেষজ্ঞের মতে, অপরাধীর অতীত ঘাটলেই বেরিয়ে আসবে বর্বরতার কারণ। অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্বপ্নার সামাজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
মানিসক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার বলেন, ‘ওই অপরাধীর (সোহেল রানা) মূল্যবোধের জায়গায় একটা বড় ফাঁক-ফোকর ছিল। অথ্যাৎ সে যেখানে বেড়ে উঠেছে সেখানে এরকম অনেক বড় ধরনের অপরাধ দেখে বেড়ে উঠেছে। ফলে স্বাভাবিক মানুষের মতো গড়ে ওঠার যে ব্যাপারটা সেটা তার তৈরি হয়নি।’
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, নৃশংসতা রোধে অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া জনসচেতনতার দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্র ও সমাজকে।