ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া যাচ্ছে না বলেই বাংলাদেশকে পদ্মা ব্যারাজ করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অপরদিকে গবেষকেরা বলছেন, ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পদ্মা ব্যারাজের উপযোগিতা থাকবে কিনা ভাবতে হবে। পাশাপাশি এর ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও পর্যালোচনা জরুরি। রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।
পদ্মা ব্যারাজের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গবেষক আসিফ বিন আলী বলেন, এই ব্যারাজের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব কেমন হবে তা পর্যালোচনা করা উচিত। ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে এর ফল কী হতে পারে, তা বিবেচনায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
গবেষক আসিফ বিন আলিফ বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবং ভারতকে ডিল করেই এ কাজ এগিয়ে নিতে হবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। গঙ্গা চুক্তি ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেলে পদ্মাব্যারেজ দিয়ে কি হবে তা নিয়ে ভাবতে হবে।’
গবেষক জাভেদ হোসেন মনে করেন বিপুল টাকা বিনিয়োগের লাভ ও ঝুঁকির দিক অবশ্যই বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পে আগাতে হবে।
জাভেদ হোসেন বলেন, ‘যে টাকা খরচ হবে সে টাকার রিটার্ন কি হবে বা বিকল্প কি হতে পারতো তা নিয়ে ভাবতে হবে।’
জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, অপেক্ষাকৃত ভালো আগামীর জন্যই বাংলাদেশকে পদ্মা ব্যারাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটা বর্বর দেশের পাশে থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না বলেই আমাদের ব্যারেজ করতে হচ্ছে। তবে কত বছরে এই ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন পাওয়া যাবে তা ভাবতে হবে। এবং রিটার্ন পেতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। সঠিক প্রযুক্তির যেন ব্যবহার হয়। কাজ করার পর যেন মনে না হয় এটা করা দরকার ছিলো কিন্তু করা হয়নি। এমন যেন না হয়। অর্থায়ন কোথা থেকে হবে তাও ভাবতে হবে।’
পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ না করায় হতাশা প্রকাশ করেন বেশির ভাগ আলোচক। এ বিষয়ে সরকার নজর না দিলে নেতিবাচক সংবাদ ও প্রচারণার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তারা।