জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, উন্মুক্ত হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার সকাল ৯টার কিছু সময় পর তিনি জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এ ছাড়া গণভবনে অবস্থিত এই জাদুঘর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জাদুঘরের টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত গণভবনের আয়তন ১৭ দশমিক ৬৮ একর। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবনটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয়। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। ২৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

শুরুর দিকে জাতীয় জাদুঘরের অধীনে এটি পরিচালনার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জাদুঘরের শাখা হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল। পরে এ অবস্থান থেকে সরে আসে সরকার। এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গণভবনের সম্পূর্ণ জমি ও স্থাপনা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে। দুই মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করেছে। 

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে এক সময়ের ক্ষমতার কেন্দ্র গণভবনের। ইতিহাসের সাক্ষী সেই গণভবনই এখন জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। 

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের প্রবেশমুখেই চোখে পড়বে জুলাই খচিত নকশা ও কারুকার্য। প্রাঙ্গণে স্থান পেয়েছে আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানানো রিকশাচালক মো. সুজন খানের সেই আলোচিত মুহূর্তের প্রতিকৃতি।

জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুর্লভ আলোকচিত্র, গ্রাফিতি, ভিডিওচিত্র, দলিল-দস্তাবেজ, সংবাদপত্রের কাটিং, শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক,  ব্যক্তিগত সামগ্রী, স্মৃতিচিহ্ন এবং বিভিন্ন ধরনের অডিও-ভিডিও।