ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই পরিচালিত আয়নাঘরে একসময় তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল। আজ শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের সঙ্গে গোপন বন্দিশালাটি ঘুরে দেখার পর এ কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
সরাসরি এই পরিদর্শনের কারণে গুমের দুটি মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তার অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর আয়নাঘরের অনেক আলামত নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস পর উন্মোচিত হয় ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই পরিচালিত গোপন বন্দিশালা বা 'আয়নাঘর'। পরে এটি পরিদর্শন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গুমের শিকার ব্যক্তিরা।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আছে। এই বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১ আগস্ট প্রথমে উত্তরায় র্যাবের টিএফআই সেল এবং এক সপ্তাহ পর এবার ডিজিএফআইয়ের বহুল আলোচিত জেআইসি বা আয়নাঘর পরিদর্শন করলেন বিচারপতিরা। তবে এসময় গণমাধ্যমের কোনো ক্যামেরা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গোপন বন্দিশালাটি পরিদর্শনের পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, 'অমানবিকভাবে বন্দিদেরকে ধরে এনে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হয়েছে। সেই নির্মম চিত্র আজকে এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কিছুটা অনুভব করা গেছে। ১/১১-এর সময় আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের অহংকার জনাব তারেক রহমানকে আজকের যে জিআইসি সেলটি আমরা পরিদর্শন করেছি তার-ই কোনো একটি কামরায় তাঁকেও কিন্তু সেখানে আনা হয়েছে, তাঁর ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল।'
জেআইসি'তে ২৩ জনকে বন্দি রেখে নির্যাতনের মামলায় শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ মোট আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে আছেন ডিজিএফআই-এর সাবেক ৫ মহাপরিচালকসহ বর্তমান ও সাবেক ১০ সেনা কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে এক মেজর জেনারেল ও দুই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বর্তমানে কারাবন্দি। বাকিরা পলাতক।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, 'বাংলাদেশে যাতে আর এই রকম কোনো পিএফআই সেল অথবা জিআইসি সেল বা তথাকথিত কোনো আয়নাঘর যাতে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত না হয়। অনেককেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিচার চলছে।
তবে আসামিদের আইনজীবীর দাবি, গুমের শিকার ব্যক্তিরা জবানবন্দিতে যে নির্যাতনের কথা বলেছেন তা সত্য নয়। আইনজীবীদের একজন জানান, 'আমাদের এই তিনজন আসামী বা ক্লায়েন্টের একই ভূমিকা ছিল। উনারা জানতেন না কাকে আনা হবে, কতদিন রাখা হবে, এবং কবে ছাড়া হবে।'
আসামীপক্ষের আরেক আইনজীবী বলেন, 'পরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকার কারণে কাউকে কোনোদিনও মানবতাবিরোধীতো দূরের কথা কোনো ক্রিমিনাল কেসই তাঁর বিরুদ্ধে হয় না।'
ভুক্তভোগী হিসেবে এই মামলায় এরই মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, হাসিনুর রহমানসহ ৬ জন।