ভারতকে বাদ দিলে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পে জটিলতার শঙ্কা নদী গবেষকদের

ভারতকে বাদ দিয়ে গঙ্গা ব্যারাজ হলে সফলতার চেয়ে জটিলতার শঙ্কা বেশি নদী গবেষকদের। নদী অববাহিকায় ভারত, চীন ও নেপালকে নিয়ে যৌথ পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষক, প্রকৌশলী ও পরিবেশ কর্মীদের আলোচনায় এমনটাই উঠে আসে। অতিরিক্ত পানি ধরে রাখলে দক্ষিণ-পশ্চিমে নদ-নদীর লবণাক্ততা, অতিরিক্ত পলি জমারও শঙ্কা রয়েছে।

বর্ষায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিতভাবে তা সরবরাহের উদ্দেশ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। সরকার বলছে, ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজে প্রায় তিন মিলিয়ন ঘনমিটার পানি ধরে রাখা যাবে।

তবে এ নিয়ে মিশ্রু প্রতিক্রিয়া নদী গবেষক ও পরিবেশকর্মীদের। সিরডাপ মিলনায়তনের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ব্যারাজের অপসারিত পানির কারণে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্তরা আরও বাড়বে। সেই সাথে পলি জমে নাব্য সংকট প্রকট রূপ নেবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর বলেন, ‘ভাবতে হবে–যতটুকু পানি আমি আটকাব, সেই আটকানো পানিগুলো অন্য কোনো সোর্স থেকে সেই নদীগুলোতে দিতে পারবো কিনা! যদি আমরা দিতে না পারি তাহলে আমি অনুরোধ করব আপনারা এই চিন্তা থেকে আপাতত বের হয়ে এসে বেজ ফ্লো নিয়ে চিন্তা করেন।’ 

নদী গবেষকদের শঙ্কা, ভারতকে বাদ দিয়ে এ ব্যারাজ নির্মাণ করলে সামনে নানা জটিলতা বাড়বে। তাই সবার আগে গঙ্গা, তিস্তা, বরাক নদীর অববাহিকা ঘিরে ভারত, চীন ও নেপালকে সাথে নিয়ে যৌথ পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

নদী গবেষক শেখ রোকন বলেন, ‘ইউএন কনভেনসশগুলো যদি ভারত স্বাক্ষর না করে তাইলে এইটাতে আমাদের কিছু করার নাই। যদি ভারত অ্যাগ্রি না করে তাহলে আমরা বাই লেটারাল মাল্টিলেটারাল চুক্তিগুলো করতে পারব।’ 

কৃষি অর্থনীতিবিদরা অবশ্য বলছেন, ব্যারাজ প্রকল্প সফল হলে প্রায় ত্রিশ লাখ টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন সম্ভব। তবে সেজন্য জরুরি সঠিক ব্যবস্থাপনা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মাছের উৎপাদন, চালের উৎপাদন বাড়বে বলা হচ্ছে। কিছু তো বাড়বে। হয়তো তত বাড়বে না, কিন্তু বাড়বে তো! আমরা খুব পজিটিভ দিকটাই আমরা দেখি এবং সঙ্গে সঙ্গে নেগেটিভ দিক যেগুলো আছে, সেগুলোকে আমলে নেওয়া হোক।’

সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গড়াই, মধুমতি, কপোতাক্ষ, চন্দনাসহ দেশের দক্ষিণ, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের নদনদী স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরবে। সেচ সুবিধার আওতায় আসবে ২৮ লাখ হেক্টর কৃষি জমি।