স্থানীয় সময় গত শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউনসভিল এলাকার ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে নিহতের খবরে বাংলাদেশি মো. ইউসুফ রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কংশনগর গ্রামের বাড়ি শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী-কন্যা, বাবা-মা ও ভাই-বোনদের আহাজারিতে আকাশ ভারি হয়ে উঠেছে।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, কংশনগর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ উল্লার তিন ছেলে, তিন মেয়ের মধ্যে রাজু দ্বিতীয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে রেখে এসেছিলেন, কথা ছিল কাগজপত্র হলে দেশে ফিরবেন। একদিন স্ত্রী, সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী রাজু রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন এবং কাজ করার জন্য তার সকল বৈধ কাগজ ছিল। তিনি ১২ বছর এবং আড়াই বছর বয়সী দুই কন্যা সন্তানের জনক। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ছোট মেয়ে রাইসার জন্ম হয়।
রাজুর এমন মৃত্যুতে তার পুরো পরিবার সামনে কীভাবে চলবে তা অনিশ্চিত। বিদেশ যাওয়ার সময় অনেক ঋণ করে গেছেন তিনি। বাড়িতে থাকার ঘরটিও করা হয়নি।
স্বজন ও এলাকাবাসী রাজুর অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
আমিশাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, রাজুর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে পার করবেন সেই চিন্তা রাজুর স্ত্রী পলি আক্তারের।