১৮০ দিনের কাজের গতি ও দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভায় রদবদলকে ইতিবাচক বলছেন বিশ্লেষকেরা। তবে সরকারের সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে একটি পরামর্শক দল গঠনের তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। তাদের মতে, মন্ত্রিসভার আকার বাড়ায় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির জনসম্পৃক্ততা কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এদিন শপথ নেন ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী। এর বাইরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ উপদেষ্টা। পরে মন্ত্রীদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকারের ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পান।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় রদবদলকে সরকারের ১৮০ দিনের কাজের গতি ও দক্ষতা যাচাই বলছেন বিশ্লেষকরা। দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের এ রদবদল ইতিবাচক বার্তা দিলেও, সরকারের আকার বাড়ায় রাজনৈতিক দল হিসেবে জনসম্পৃক্ততা কমে আসার আশঙ্কা করছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, ছয় মাসে এসে যে জায়গাটা আওয়ামী লীগও করেছিল,সেটির পুনরুৎপাদন করেছে মাত্র। সরকারেক বড় করা, বিপরীতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির কার্যক্রম, সক্রিয়তা, কর্মসূচি এবং জনসমর্থন ও জনগণের পাশে থাকার জায়াগাগুলো যদি ক্ষীণ করে ফেলে, তাহলে কিন্তু বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে ঝুঁকির মুখে পড়বে।
দেশের স্বার্থে সরকারপ্রধানের আন্তরিকতা স্পষ্ট উল্লেখ করে, সরকারের কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে শক্তিশালী পরামর্শক দল গঠনের তাগিদ দেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, যখন এই মন্ত্রীরাই সরকারকে ঠিকমতো চালাতে পারছে না,তখন আরও কয়েকজনকে নিয়ে আসলে কী সরকারের কার্যক্ষমতা বাড়বে?এত বড় মন্ত্রিসভা করাই হয়েছে দলীয় লোকদের জায়গা দেওয়ার জন্য। কিন্তু তার সদিচ্ছা আছে বোঝা যায়, একজনের পক্ষে তো সম্ভব না। খুব শক্তিশালী উপদেষ্টা টিম দরকার।
আকার বৃদ্ধি নয়, দক্ষতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার রদবদল পরিবর্তিত রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তাই বহন করছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।