তড়িঘড়ি করে নয় শর্ত ও এর ব্যাপ্তি জেনেই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তারা বলেন এটি কোনো ইসলামি ন্যাটো নয়, তিন দেশ নিজ স্বার্থেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান নয়, বরং নিজ দেশের প্রয়োজনকে সামনে রাখার তাগিদও দিয়েছেন তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বাস্তবতায় ৭ আগষ্ট সৌদি আরব,পাকিস্তান ও তুরস্ক মিলে সই করে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। বহুল আলোচিত এই মক্কা চুক্তিতে বলা হয়, জোটভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা বাকি দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এরই মধ্যে মিসরসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ এ চুক্তিতে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগ্রহ আছে বাংলাদেশেরও। তবে বৃহস্পতিবার সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, এ জোটে যাওয়ার জন্য এখনও কোনো পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ উদ্যোগ নিয়ে এখনও অনেক ধোয়াশা রয়েছে। তাই হিসেব কষেই এগোনো উচিত বলে মনে করেন তারা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওবায়দুল হক বলেন, চাইলেই কী এখানে ইরান জয়েন করতে পারবে? হয়তো বাংলাদেশ পারবে। জয়েন করার আগে আমাদের একটু সময় নেওয়া উচিত। এটার শেইপ কী, তা আমরা এখনও বুঝিনি।
সাবেক রাষ্ট্রদূত আশরাফ উদ দৌলা বলেন, হঠাৎ করে এটা নিয়ে ডিসিশন নেওয়া যাবে না। ভেবেচিন্তে যাওয়া উচিত, আমাদের লাভ কী লোকসান কী!
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়টি নজরে রাখার কথা জানিয়েছে দিল্লি। তাদের শঙ্কা, এ জোটের কারণে পাকিস্তানের পক্ষে শক্ত অবস্থানে যেতে পারে ঢাকা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের স্বার্থকে সামনে রেখেই এগোতে হবে সরকারকে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত আশরাফ উদ দৌলা বলেন, ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের যে ডিফেন্স প্যাক্ট হয়ৈছে, সেটা নিয়ে কি আমরা কোনো কথা বলেছি? তারা কী ভাবলো না ভাবলো সেটা আমাদের চিন্তার বিষয় না। আমরা তো ভারতের বিরুদ্ধে কিছু করছি না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওবায়দুল হক বলেন, কোনো কোনো রাষ্ট্র বা আমাদের প্রতিবেশী সংবেদনশীল; এ কারণে নয়। আমরা বুঝতে চাই নিজেদের স্বার্থেই, এখানে জয়েন করলে কী সুবিধা আছে, কী অসুবিধা আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ত্রিদেশীয় এই উদ্যোগে যোগ দেয়ার সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও। সব কিছু বিবেচনা করেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান তাদের।